ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেছেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি প্রকৃত অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। দলমত–নির্বিশেষে লাখো মানুষের তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণই তার প্রমাণ।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলা এই শোকসভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, সম্পাদক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন।
নূরুল কবীর বলেন, মানুষ ও রাজনীতিক হিসেবে খালেদা জিয়ার যে দিকটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তাঁর রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। এমন এক সময়ে, যখন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল, তখনও তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আঘাত, অপমান ও পারিবারিক দুর্ভোগের জবাবে কখনো প্রকাশ্যে ক্ষোভ বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দেননি। এই সংযম, আত্মমর্যাদা ও পরিমিত আচরণ আজকের অসহিষ্ণু রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার জানাজার প্রসঙ্গ টেনে নূরুল কবীর বলেন, সেই বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপির এক নেতা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে দলটির রাজনীতি খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে পরিচালিত হবে। তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বানও জানান।
শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। দুপুর আড়াইটার পর কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই শোকসভায় বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজন বক্তব্য দেন। শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
