
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিদ্যালয়ের পাশ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, খালের পাড়, মহাসড়ক ও সড়ক বিভাজকজুড়ে ছড়িয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। যত্রতত্র ফেলা গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানার বর্জ্যের দুর্গন্ধে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, কদমতলী বন্দডাকপাড়া, আগানগর স্কুল রোড, শুভাঢ্যা আর্মি ক্যাম্প, রতনের খামার, জিনজিরা নেকরোজবাগ, কালিন্দী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ধারে স্তূপ হয়ে আছে পচা খাবার, প্লাস্টিক, পোড়া বর্জ্য। এসব জায়গা থেকে নির্গত দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার স্তূপ থাকায় শিক্ষার্থীরা নাক চেপে স্কুলে ঢুকছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। একইভাবে সড়কের পাশের দোকান ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্রেতারা দুর্গন্ধের কারণে দোকানে বসতে চান না।
রতনের খামার সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বর্জ্যের স্তূপ জমে আছে। এতে ১২ ফুট প্রশস্ত সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে মাত্র ৩ ফুট ব্যবহারযোগ্য রয়েছে। কয়েকটি গ্রামের দুই সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিনাত ফৌজিয়া জানিয়েছেন, খাসজমি ও নির্দিষ্ট এলাকায় ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সড়ক পরিষ্কারে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ফলে প্রতিদিন দুর্গন্ধ, নোংরা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।