সরকারি মালিকানাধীন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ফতুল্লা ডিপো থেকে দুই দফায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা ও তদারকির বড় দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে।
ডিপো সূত্রে জানা যায়, তেল মজুত রাখা ট্যাংকের সক্ষমতা জালিয়াতি করে কম দেখানো হয়েছে। ২২ ও ২৩ নম্বর ট্যাংকে পাইপলাইন থেকে তেল এলেও হিসাব কম দেখানো হয়। এভাবে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ তেল বাইরে পাচার করা হয়।
প্রথম ধাপে ২৪ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত তেল থেকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৮০৪ লিটার ক্ষতি দেখানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১৪ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহে ক্ষতি দেখানো হয় আরও ১ লাখ ১২ হাজার ৬১৪ লিটার।
এ ঘটনায় যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ ট্যাংকের সক্ষমতা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে এবং ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে ডিপো পরিদর্শন করেছেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
তবে যমুনার তিনজন কর্মকর্তার অভিযোগ, সক্ষমতা যাচাইয়ের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে ট্যাংকের ধারণক্ষমতা কমিয়ে দেখানো হয়েছে। এতে দুই দফায় প্রায় আড়াই লাখ লিটার তেল চুরি হয়েছে। একই কৌশলে ট্যাংকলরির সক্ষমতা কমিয়ে দেখিয়েও তেল পাচার করা হয়।
যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কর্মকর্তাদের দাবি, শুধু অভ্যন্তরীণ তদন্ত নয়, বরং বিপিসি বা জ্বালানি বিভাগকে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ধরনের চুরির ঘটনা অনুসন্ধান করা উচিত।
