
দালালের পেছনে ঘুরে নয়, সরাসরি ভাষা শিক্ষা কোর্স করে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। ছয় থেকে নয় মাসের জাপানি ভাষা কোর্স শেষ করলেই চাকরির সুযোগ মিলবে দেশটিতে। সেখানে একজন কর্মী মাসে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও রয়েছে।
জাপানে জন্মহার ক্রমেই কমছে, ফলে তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির জনসংখ্যা কমে ১২ কোটি ৩ লাখে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ লাখ কম। আগামী ২০৭০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা আরও কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন খাতে শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে ২০১৯ সালে জাপানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে নেপাল, ফিলিপাইন ও অন্যান্য দেশ যেখানে লাখ লাখ কর্মী পাঠিয়েছে, বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। বর্তমানে জাপানে প্রায় ২৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত। অথচ নেপাল একাই পাঠিয়েছে আড়াই লাখ।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিন মাসের মধ্যেই এক লাখ কর্মী পাঠানো সম্ভব, যদি তাঁদের জাপানি ভাষা জানা থাকে। শুধু পরিচর্যাকারী নয়, নির্মাণ, কৃষি, ইলেকট্রনিকস, রেস্টুরেন্ট, গাড়ি সার্ভিসিংসহ মোট ১৪টি খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি চাহিদা এখন নার্সিং কেয়ার খাতে। বর্তমানে জাপানে এই খাতে ৬০ হাজার কর্মীর প্রয়োজন। দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার, যাঁদের দেখভালের জন্য কেয়ার গিভার প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ৩২টি কেন্দ্রে জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। মিরপুর, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে ‘এন-ফোর’ পর্যায়ের ভাষা কোর্স করানো হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি ও বিভিন্ন বেসরকারি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র জাপানি ভাষা শেখাচ্ছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ২ হাজার, ২০২৭ সালে ৬ হাজার, ২০২৮ সালে ১২ হাজার, ২০২৯ সালে ৩০ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৫০ হাজার কর্মী জাপানে পাঠানো সম্ভব। এর মধ্যে নির্মাণে ৪০ হাজার, কলকারখানায় ২০ হাজার, কেয়ার গিভারে ২০ হাজার এবং কৃষি ও গাড়ি সার্ভিসিং খাতে ২০ হাজার কর্মীর সুযোগ থাকবে।
সরকারি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, দক্ষ জাপানি ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। তবে এ বাজারকে কাজে লাগাতে হলে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হয়ে উঠতে পারে।