খুনিরা মামলার দুই দফা তদন্ত শেষে পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ড সত্য হচট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর দক্ষিণ পাড়ে শিকলবাহা ব্রিজ এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাসচালক জালাল উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করার ছয় বছর পার হলেও এখনো শনাক্ত হয়নিলেও জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়নি এবং এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার থেকে গাজীপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের বাসটি শিকলবাহা এলাকায় পৌঁছালে ১০–১২ জন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি থামান। তাঁদের হাতে ছিল পিস্তল, হাতকড়া, ওয়াকিটকি ও টর্চলাইট। চালক জালাল উদ্দিনকে ইয়াবা থাকার অভিযোগ তুলে হাতকড়া পরিয়ে বাস থেকে নামানো হয় এবং মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় চালকের ছোট ভাই জুয়েল হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং পরে নগর ডিবি পুলিশ। উভয় সংস্থাই আদালতে পৃথকভাবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, যেখানে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডে চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশ জড়িত নয় এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাড়ি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়নি।
তবে নিহত চালকের পরিবার ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, এত বছরেও আসল খুনিদের চিহ্নিত না হওয়া দুঃখজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। নিহতের স্ত্রী ইলিনা খানম বলেন,
“গরিব বলে আমরা কি বিচার পাব না? আমার সন্তানরা কি জানতে পারবে না তাদের বাবার খুনি কারা?”
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মো. মুছা বলেছেন, চালক হত্যার বিচার না হওয়া শ্রমিকদের জন্য গভীর হতাশার।
আগামী ৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার বাদীর উপস্থিতিতে পুলিশের দ্বিতীয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানি হবে। বাদী পক্ষ নারাজি আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
