
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারি না। সংবিধান ছেলে খেলা নয়, এটিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলতে দিতে হবে।”
শনিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনডিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটবে এবং পতিত ফ্যাসিবাদ সুযোগ পাবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচালের চেষ্টা করা মানেই অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উত্থানের সুযোগ দেওয়া।
গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তর্ক-বিতর্ক হবে, ভিন্নমত থাকবে, তবে জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যমতের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে—যাতে জনগণ ও দেশ উভয়ই বিজয়ী হয়।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রণীত হলেও এক বছরের মধ্যেই সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছিল। তাই নতুন সংবিধান প্রণয়ন করলেই তা স্থায়ী হয়ে যাবে—এমন ধারণা ভুল।
পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর পূর্ণরূপ হচ্ছে পার্মানেন্ট রেস্টলেসনেস। এ ব্যবস্থায় সরকার স্থিতিশীল হয় না; কয়েক মাস পরপর প্রধানমন্ত্রী ও সরকার পরিবর্তন হয়। ফলে কোনো দল জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে না, দেশের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রকে এ ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।