জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে নিজেদের সেফ এক্সিটের (নিরাপদ প্রস্থান) পথ খুঁজছেন। সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর এ বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে নাহিদ ইসলামের সাক্ষাৎকারের ভিডিও ও ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়েছে। এসব পোস্টে পক্ষে–বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাত্তর টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া ফটোকার্ডটিতে রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত ১২ হাজার প্রতিক্রিয়া ও প্রায় ১ হাজার ৪০০ মন্তব্য এসেছে।
অভ্যুত্থান ও নাহিদের ভূমিকা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক দফা দাবি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি উপদেষ্টা হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হন। অন্যদিকে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা হওয়া মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এখনও সেই দায়িত্বে রয়েছেন।
‘বিশ্বাসে প্রতারিত হয়েছি’
সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা কেউ উপদেষ্টা পদে যেতে চাননি, বরং জাতীয় সরকার গঠনের দাবি করেছিলেন। রাজনৈতিক বা অভ্যুত্থানের শক্তি ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার টিকত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভুল ছিল অনেক উপদেষ্টাকে বিশ্বাস করা। ছাত্র নেতৃত্বকে শক্তিশালী না করে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ওপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছে, কেউ কেউ গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সময় এলে তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে।”
‘উপদেষ্টারা সেফ এক্সিট খুঁজছে’
নাহিদ ইসলামের ভাষায়, অনেক উপদেষ্টা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করছেন এবং নিজেদের নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে ভাবছেন। অথচ তাঁদের মনে রাখা উচিত ছিল, তাঁদের নিয়োগকর্তা আসলে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তি—যারা রাজপথে জীবন দিয়েছে, আহত হয়েছে। উপদেষ্টারা যদি সেই শক্তির ওপর আস্থা রাখতেন, তাহলে এ ধরনের বিচ্যুতি হতো না।
এ বিষয়ে জানতে রবিবার রাতে প্রথম আলো নাহিদ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।