
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। খুন, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বেড়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৫৪০টি মামলা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় মাসে ৯৫টি বেশি।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অপরাধ বাড়ছে। তারা মনে করেন, শুধু পুলিশি অভিযান নয়—কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক সচেতনতা জরুরি।
৫ আগস্টের পর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাঁদাবাজি বেড়েছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ট্রাকচালক পর্যন্ত সবাই চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনেকে ভয়ে অভিযোগও করতে পারছেন না। সম্প্রতি পুলিশ অভিযানে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করা একটি সন্ত্রাসী চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে।
নরসিংদীতে চাঁদাবাজদের হামলায় আহত হয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। বিভিন্ন জেলায় চাঁদা না দেওয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অপরাধ দমনে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চলছে। চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সহযোগিতায় ‘ডিটেনশন’ কার্যক্রম নেওয়া হবে। আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, অপরাধীরা কোনোভাবেই পার পাবে না।
গত মাসেই গণপিটুনিতে মারা গেছে ২৪ জন। নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাও বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইন-শৃঙ্খলা উন্নত না হলে মানুষের নিরাপত্তা আরো হুমকির মুখে পড়বে।