
উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল ও ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। রবিবার (৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিলেও পানি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফ্লাড বাইপাসের ওপর দিয়েও প্রবল স্রোতে পানি বইছে। প্রশাসন অববাহিকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।
প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ও সবজির আবাদ পানির নিচে ডুবে গেছে। পুকুর ভেসে গেছে, লাখ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। পানিবন্দী মানুষজন গবাদিপশু ও সামান্য মালামাল নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও টয়লেট নিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। শুকনো খাবার বিতরণ ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে কাজ করছে।
“তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ” এবং স্থানীয় আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রতি বছর বন্যায় তিস্তা অববাহিকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এ অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।