
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি আদালতের দেওয়া সাজা। পরিবারের দাবি, বর্তমান সরকার থাকতেই আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা হোক।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগ নেতাদের নির্যাতনে নিহত হন আবরার। পরদিন তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত শেষে মোট ২৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ হাইকোর্টও এই রায় বহাল রাখে।
তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি—মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ শুরু থেকেই পলাতক। গত বছর গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যান আরেক আসামি মুনতাসির আল জেমি। এতে করে শাস্তি কার্যকরের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, “আমাদের পরিবারের এখন একমাত্র চাওয়া হলো দ্রুত বিচার কার্যকর করা। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায় হওয়ার পরও মামলাটি আপিলের অপেক্ষায় পড়ে আছে। ছয় বছর হয়ে গেছে, আর কত অপেক্ষা করব?”
আবরার হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ১০ দফা দাবিতে টানা দুই মাসেরও বেশি সময় আন্দোলন চালান। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০১৯ সালের অক্টোবরেই বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।
চিকিৎসকদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, আবরারের শরীরে মারধরের অসংখ্য চিহ্ন ছিল এবং অতিরিক্ত আঘাতের কারণে শরীরের ভেতরে গভীর জখম তৈরি হয়, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ।
আজও পরিবার এবং সহপাঠীরা একটাই প্রত্যাশা করছে—আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের সাজা দ্রুত কার্যকর হোক এবং এ মামলার আপিল প্রক্রিয়া বিলম্ব না করা হোক।