
দিনাজপুর শহরের গুঞ্জাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত বধির ইনস্টিটিউটের চিত্র এখন বেহাল। বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি মায়া ও দায়িত্ববোধে তাঁরা কাজ চালিয়ে গেলেও নানা সমস্যায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
৬৯ বছর বয়সী শিক্ষক রাবেয়া খাতুন এখানে ৩৫ বছর ধরে শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবাসিকে থাকা ২৪ জন শিক্ষার্থীর খাওয়া–দাওয়া, পড়াশোনা, খেলাধুলা থেকে শুরু করে সার্বিক দায়িত্ব তিনি সামলান। সরকারি কোনো বেতন না পেলেও স্থানীয় অনুদান থেকে মাসে ৬০০ টাকা ভাতা পান তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি। রাবেয়া বলেন, “ওরা কথা বলতে পারে না, কানেও শোনে না। মায়ায় আটকে আছি ৩৫টা বছর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওদের পাশে থাকতে চাই।”
১৯৮৯ সালে স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠে দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউট। পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাঁচতলা ভবন নির্মিত হলেও আজ তা জরাজীর্ণ। ভাঙা দরজা–জানালা, নষ্ট হয়ে যাওয়া কম্পিউটার, অচল সেলাই মেশিন ও পরিত্যক্ত ভ্যান—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা শোচনীয়। বর্তমানে ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করছে।
শিক্ষক নাজনীন আক্তার বলেন, “১৮ বছর ধরে বেতন ছাড়াই কাজ করছি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস চালাই। বাচ্চাগুলোকে ছেড়ে যেতে পারি না।”
অভিভাবকেরা বলছেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকায় অনেকে কাজে যোগ দেয়। যদিও কেউ কেউ সফল হয়ে ব্যাংক, পোশাক কারখানায় চাকরি করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ইশারা ভাষার শিক্ষক ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে এই বিশেষ জনগোষ্ঠী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।