
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন দুটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভির লাইসেন্স দিয়েছে। আগের সরকারের মতো একই প্রক্রিয়ায় অনুমোদন পাওয়া এই দুটি টিভি হলো ‘নেক্সট টিভি’ ও ‘লাইভ টিভি’।
নেক্সট টিভির লাইসেন্স পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিন। তিনি পূর্বে সাংবাদিক ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এনসিপিতে যোগ দেন।
অন্যদিকে, লাইভ টিভির অনুমোদন পেয়েছেন আরিফুর রহমান নামের আরেকজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি সাংবাদিকতা করেছেন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ছিলেন, তবে এনসিপিতে যোগ দেননি।
এই দুই আরিফুর রহমানের টিভি পরিচালনা করার মতো আর্থিক সক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের প্রথা অনুসারেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় আনুগত্য, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আর্থিক প্রভাবের ভিত্তিতেই অধিকাংশ টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে গণমাধ্যমে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি টিভির সংখ্যা ৫০টি। এর মধ্যে ৩৬টি সম্প্রচারে আছে, ১৪টি এখনো অপেক্ষমাণ।
নেক্সট টিভি পরিচালনা করছে ‘৩৬ মিডিয়া লিমিটেড’। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সাবেক সাংসদ এ কে এম হাফিজুর রহমানের ছেলে ও সৌদি বিএনপি নেতা এ কে এম গোলাম হাসনাইন। তিনি এরই মধ্যে বিনিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, লাইভ টিভির মালিকানায় রয়েছে ‘মিনার্ভা মিডিয়া লিমিটেড’। এর কর্ণধার আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে, আর বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় আগামী বছর সম্প্রচারে যেতে চান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, টিভি লাইসেন্স দেওয়ার নির্দিষ্ট আইন নেই। ২০১৪ সালের জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আবেদনকারীর কাগজপত্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাচাই শেষে সরকারের অনুমোদনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন,
“আমাদের আশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার নীতি মেনে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আগের মতোই মুখ দেখে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান টিভি চ্যানেলগুলোরই টিকে থাকা কঠিন—বেতন সংকট, কর্মী ছাঁটাই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন টিভির অনুমোদন কতটা যৌক্তিক, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।”
১৯৯৮ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল অনুমোদনের নীতি প্রণয়ন হয়। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ১০টি, আর আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে ২৮টি চ্যানেলের লাইসেন্স দেয়। ফলে বর্তমানে অনুমোদিত চ্যানেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০।