
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হলে তিনি আর কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। অর্থাৎ সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার পরিষদ বা প্রতিষ্ঠানের মেয়র-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা যাবে না। একইসঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি দপ্তরে (পাবলিক অফিস) নিয়োগ পাওয়ারও যোগ্য থাকবেন না।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩ সংশোধন করা হয়েছে এবং এতে নতুন সংযোজন আনা হয়েছে। রাষ্ট্রকে সঠিক পথে আনতে এবং সময়ের প্রয়োজনেই এই সংশোধন আনা হয়েছে।”
প্রসিকিউটর আরও জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন এবং দ্রুতই তদন্ত শেষ হবে। তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে রাজনৈতিক দলকে সাজা দেওয়ার বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলকে সরাসরি সাজা দেওয়া যাবে না। তবে আইনে দল নিষিদ্ধকরণ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। তদন্ত রিপোর্ট আদালতে গেলে তখন এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।”
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আবেদন করা ছিলো, সেটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রার্ড হয়ে তদন্তে গড়িয়েছে। ইতিমধ্যে সাক্ষীরা যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তা এখন জুডিশিয়াল ডকুমেন্ট এবং মামলার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আইনের সাম্প্রতিক সংশোধন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে আনা সংশোধনী বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। কারণ এখনো তা কোনো চলমান বিচারের ওপর প্রয়োগ হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, এটি আদালতে চ্যালেঞ্জও করা যাবে না।”