
মানুষের সুস্থ জীবনযাপন ও দীর্ঘায়ুর জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পাঁচটি সহজ অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। নিয়মিত ধ্যান, মানসম্মত ঘুম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা ও দূষণ থেকে সুরক্ষা—এই অভ্যাসগুলো শরীর ও মনের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হার্ভার্ডের গবেষণা বলছে, ধ্যান মানসিক চাপ কমায় এবং মনোযোগ বাড়ায়। বর্তমানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সাহায্য করে। স্ট্রেস কমাতে ও কর্টিসলসহ ক্ষতিকর হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন কিছুটা সময় ধ্যান, মনোযোগী হাঁটা বা প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে ব্যয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভালো ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখে এবং দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৭ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট। তবে ঘুমের মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাতভর ঘুম ভাঙা বা ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। ফল, সবজি, ডাল, গোটা শস্যজাতীয় খাবার খেতে হবে এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। মিষ্টিজাতীয় খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এতে হজমশক্তি বাড়ে এবং শরীরের প্রদাহ কমে।
শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়, দিনের মধ্যে সক্রিয় থাকতে হবে। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, অফিসে স্ট্রেচিং, বাগান করা বা নাচ-খেলাধুলা শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ায়। নিয়মিত নড়াচড়া রক্তনালি ও বিপাকীয় তন্ত্রকে সুস্থ রাখে।
বায়ুদূষণ, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও কেমিক্যাল শরীরের ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি করে। ঝুঁকি কমাতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার, ফিল্টার করা পানি পান, প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা দরকার। রান্নার সময় বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা ও গাছ লাগানোও কার্যকর।
হার্ভার্ডের মতে, এসব সহজ অভ্যাস মেনে চললে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, রোগের ঝুঁকি কমবে এবং দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা বাড়বে।