
রাজধানীর গুলিস্তান ও হাতিরপুলের ছোট দুটি ইলেকট্রনিকস মেরামতের দোকানের হিসাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার লেনদেনের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের মতে, এই লেনদেনগুলো আসলে হুন্ডি ব্যবসার অংশ।
দুটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন:
গুলিস্তানে এবি ইলেকট্রনিকস – লেনদেন ৬৫৬ কোটি টাকা
হাতিরপুলের আনিরা ইন্টারন্যাশনাল – লেনদেন ১৩৩ কোটি টাকা
২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব লেনদেন হয়। ওই সময়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এম কামাল হোসেন, যিনি আগে ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কামাল হোসেন
বিএফআইইউর তদন্তে দেখা গেছে, এমডি থাকা অবস্থায় কামাল হোসেন অবৈধ হুন্ডি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ঋণ জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যদিও আয়কর রিটার্নে দেখিয়েছেন মাত্র ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
তদন্তে পাওয়া সম্পদের খোঁজ:
কামাল হোসেন ও পরিবারের নামে ৩৬৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০২ কোটি টাকার লেনদেন।
নিজের নামে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সঞ্চয়।
স্ত্রী-সন্তানদের নামে শত কোটি টাকার বিনিয়োগ।
পরীবাগ ও ইস্কাটনে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বসুন্ধরায় একাধিক প্লট, শান্তা গার্ডেনে অ্যাপার্টমেন্ট।
শেয়ারবাজার, ট্রেজারি বন্ড ও সঞ্চয়পত্রে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ।
দুদকে তদন্ত প্রতিবেদন
বিএফআইইউ বলেছে, এবি ইলেকট্রনিকস ও আনিরা ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে হওয়া ৮০০ কোটি টাকার লেনদেন হুন্ডি নেটওয়ার্কেরই অংশ। এ বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য গত ২১ জুলাই দুদকে প্রতিবেদন পাঠানো হয় এবং দুদক ইতিমধ্যে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, “কোনো ব্যাংকের এমডি হুন্ডি ব্যবসায় জড়ালে সেটি অত্যন্ত হতাশাজনক। ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া ও অবৈধ সম্পদ অর্জন গুরুতর অপরাধ।”