
বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের আলোচনায় এখন ভারতীয় নারী আম্পায়ার গায়ত্রী বেণুগোপালান। নারী বিশ্বকাপে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–ইংল্যান্ড ম্যাচে তাঁর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ১৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় ইংল্যান্ডকে জেতান হিদার নাইট। তবে ব্যক্তিগত ১৩ রানে তিনি একটি ক্যাচ তুলেছিলেন। বাংলাদেশের ফিল্ডার স্বর্ণা আক্তার ক্যাচটি নেন বলে মাঠের সবাই মনে করলেও টিভি আম্পায়ার গায়ত্রী রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত দেন—স্বর্ণার আঙুল বলের নিচে ছিল না, ফলে নাইট ‘নটআউট’।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় বইছে। অনেকেই মনে করছেন, নাইট আউট হলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত। বাংলাদেশের লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুন ম্যাচ শেষে বলেন, “সিদ্ধান্তটি আমাদের পক্ষে এলে ফল ভিন্ন হতে পারত।”
৪৬ বছর বয়সী গায়ত্রীর জন্ম ভারতের চেন্নাইয়ে। খেলোয়াড়ি জীবন কাঁধের চোটে থেমে গেলেও ২০১৯ সালে বিসিসিআইর আম্পায়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পেশাদার আম্পায়ার হন।
নারী ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত তিনি তিনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ২৯টি টি-টোয়েন্টি, ৮টি ওয়ানডে ও ১টি টেস্ট পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে বেশ কিছু ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বও পালন করেছেন।
২০২৩ সালে রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে প্রথমবার তিন নারী আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনা করেন—গায়ত্রী তাঁদের একজন।
এ বছর ফেব্রুয়ারিতে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে (ডব্লিউপিএল) মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচেও তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তিনটি রানআউট আবেদন নাকচ করে দেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তবে পরবর্তীতে ডব্লিউপিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, গায়ত্রীর সিদ্ধান্তই নিয়ম অনুযায়ী সঠিক ছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গায়ত্রী বলেন, “আম্পায়ারিং ধন্যবাদহীন কাজ। ১০টির মধ্যে ৯টি সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও মানুষ সেই একটি ভুল নিয়েই কথা বলে।”