
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে ইসরায়েল। এর অংশ হিসেবে গাজার কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যেতে শুরু করেছে, এবং কিছু বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপে ফিরে যাচ্ছেন। তবে অনেকেই এখনও আশঙ্কায় আছেন, যুদ্ধবিরতি সত্যিই কার্যকর হয়েছে কি না।
গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জায়দা (৪০) বলেন,
“আমার বাড়িটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে—এটা আল্লাহর রহমত। কিন্তু চারপাশের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো এলাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“তারা বলছে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু কেউ এসে আমাদের নিশ্চিত করছে না। আমরা কি এখন নিরাপদ?”
আজ শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি সরকার হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সহিংসতা বন্ধ হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই চুক্তি করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের ফেরত দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে প্রত্যাহার শুরু করবেন।
গাজার দক্ষিণের খান ইউনিস শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চল থেকে কিছু ইসরায়েলি ট্যাংক ও সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যদিও এখনো গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
গাজার কেন্দ্রস্থল নুসেইরাত শিবিরেও দেখা গেছে, সেনারা তাঁদের অবস্থান থেকে সরলেও কিছু জায়গায় এখনও অস্থায়ী মোতায়েন রয়েছে।
গাজা শহরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী সড়ক থেকেও সেনারা সরে গেছে, ফলে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ ঘরে ফেরার আশা নিয়ে জড়ো হয়েছেন। তবে কাছাকাছি গুলির শব্দে অনেকে এখনো আতঙ্কে ফিরতে পারছেন না।
উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, আগে যেখানে যাওয়া সম্ভব ছিল না, এখন সেসব ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি হামলার শিকার কিছু এলাকা থেকে অন্তত ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।