
যুদ্ধ থেমেছে, চুক্তি হচ্ছে—তবে হামাস কি সত্যিই অস্ত্র সমর্পণ করবে? এটি এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের বিষয়ে ইসরায়েল ও হামাস একমত হয়েছে, কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ এখনও বিদ্যমান। কেন্দ্রে রয়েছে হামাসের অস্ত্রভান্ডার।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করছে, গাজায় দুই বছরের যুদ্ধ শেষ করতে হলে হামাসকে সব অস্ত্র জমা দিতে হবে, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে এবং সংগঠন ভেঙে দিতে হবে। তবে হামাস প্রকাশ্যেই অস্ত্র সমর্পণ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্থাটি গোপনে কিছু অস্ত্র সমর্পণে আগ্রহ দেখাতে পারে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞ হিউ লোভ্যাট বলেন,
“হামাসের কর্মকর্তারা গোপনে মধ্যস্থতাকারীদের বলেছেন যে তারা কিছু আক্রমণাত্মক অস্ত্র ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রাজি হতে পারেন।”
গাজায় হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর দুই বছরের যুদ্ধে শীর্ষনেতাদের অনেককে হারিয়েছে, ফলে দলটি এখন কিছুটা বিপর্যস্ত। তবে অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী যেমন প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিইএলপি), আল-আকসা মার্টায়ারস ব্রিগেডস এখনও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, হামাসের হাতে কিছু সামরিক ক্ষমতা থাকা দরকার যেন ক্ষমতার শূন্যতা কাজে লাগিয়ে গাজার গ্যাংগুলো আধিপত্য প্রতিষ্ঠা না করে।
হিউ লোভ্যাট বলেন, হামাস একটি অন্তর্বর্তীকালীন টাস্কফোর্সকে সহযোগিতা করতে পারে, যা নিরাপত্তা দেবে এবং কিছু অস্ত্রের আংশিক সমর্পণ তদারকি করবে। তবে টাস্কফোর্স অবশ্যই “সন্ত্রাসবিরোধী” ভূমিকা নেবে না।
গাজার অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হামাসকে পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব নয়। তারা আগামী কয়েক বছরে হাজার হাজার তরুণকে দলে যুক্ত করবে। হামাস শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, এটি প্রতিরোধের প্রতীক ও ধারণা, যা আরব বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা নেতাদের ওপর নির্ভর করবে। তারা ইসরায়েলকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং দাবিগুলো সীমিত করতে পারে, সেই বিষয়েই নির্ভর করবে হামাস কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত।