google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: নির্বাচন-সামনে-রেখে-রাজনৈতিক-সংঘাত-বাড়ার-আশঙ্কা:-তথ্য-উপদেষ্টা-মাহফুজ-আলম
নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে, তবে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান বিবেচনায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে ‘মাজার সংস্কৃতি: সহিংসতা, সংকট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সুফি গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ‘মাকাম’।
মাহফুজ আলম বলেন, “সবাই সংঘাতের জন্য অপেক্ষায় আছে, কয়েক মাসের মধ্যেই সেটি দেখা যাবে—এমন আশঙ্কা করছি। আর যদি এর সঙ্গে ধর্মীয় উপাদান যুক্ত হয়, তাহলে দেশের পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদ–মাজার কেন্দ্রিক রাজনীতিকরণ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ কমিটি ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের নেতৃত্ব বদলে যায়, যা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ।
সাম্প্রতিক ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের ৯০–৯২ শতাংশ মুসলমানের মধ্যে বিভিন্ন ধারার অনুসারী আছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব কখনোই এই ধারাগুলোর মধ্যে সংলাপ বা সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেনি, বরং বিভাজন বাড়িয়েছে।
সুফি ধারার সঙ্গে আওয়ামী লীগের অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আদর্শিক বিরোধিতার জায়গা থেকে ওই সংযোগ তৈরি হয়েছিল, আর কওমি ধারাও রাজনৈতিক ব্যবহারের শিকার হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কিছু বিদেশি দূতাবাসও মাজারবিরোধী ধারার প্রতি অনুকূল অবস্থান নেয়, যা দেশের ধর্মীয় সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলছে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নীতির মাধ্যমে সমাধানের জোর দাবি জানান তিনি।
মাহফুজ আলম জানান, সাম্প্রতিক মাজার হামলার ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সমীক্ষার ভিত্তিতে মাজার সংস্কারের পরিকল্পনাও করা হবে। মাজার কর্তৃপক্ষকে মামলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সহিংসতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকতে দেওয়া যাবে না।
সংলাপ শেষে সাংবাদিকরা পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তা আলোচনার বাইরের বিষয় বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।