google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
আসন্ন গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয় প্রচারণা শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির অংশ। তবে সমালোচকদের মতে, কেবল সচেতনতা তৈরির পরিবর্তে সরকার একটি নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে, যা সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত দুটি কারণে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার–সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে সরকারের আস্থাহীনতা। দ্বিতীয়ত, সংস্কার প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভূমিকা ও ইমেজ ধরে রাখার চেষ্টা। সরকারের বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, রাজনৈতিক দলগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারবে কি না—এ নিয়ে সরকারের ভেতরে গভীর সংশয় রয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাজনীতিবিদদের হাতেই যদি সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে, তবে গত পাঁচ দশকে কেন সেগুলো কার্যকর হয়নি। তাঁর মতে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা ও মানসিকতার পরিবর্তনে অনীহার কারণে রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজন দেখা দেয়।
তবে ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশে সংস্কারের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি—এমন দাবি পুরোপুরি সঠিক নয়। অতীতে কিছু ইতিবাচক সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই পরে বাতিল বা পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলেও ভবিষ্যতে এসব সংস্কার টেকসই থাকবে—এর নিশ্চয়তা কে দেবে?
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সংস্কার তখনই কার্যকর ও টেকসই হবে, যখন জনগণ নিজেরাই ধীরে ধীরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব অনুভব করবে। কেবল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের প্রত্যাবর্তন ঠেকানো সম্ভব নয়।
এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রকাশ্য আস্থাহীনতা প্রকাশ করাও সরকারের জন্য শোভন নয় বলে মত অনেকের। কারণ, এসব রাজনৈতিক দলই সরকার আয়োজিত সংস্কারসংক্রান্ত আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং ঐকমত্য কমিশনসহ বিভিন্ন ফোরামে মতামত দিয়েছে। তবু সমালোচকেরা বলছেন, এসব দল দেশের সব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণের একটি অংশের মতামত