google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হবেন পূর্ণ মন্ত্রীর সমমর্যাদায়, বদল আসছে নিয়োগ ও পর্ষদ কাঠামোয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদমর্যাদা এখন থেকে হবে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সরকারের প্রতিনিধির সংখ্যা কমানো এবং গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫–এর খসড়ায়, যা ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, নীতিগত স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত।
খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদমর্যাদা হবে পূর্ণ মন্ত্রীর সমান। বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ উপদেষ্টা ও সচিবদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছেন,
“এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা মন্ত্রীর সমান মর্যাদা পান।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নয়জন সদস্য রয়েছেন—এর মধ্যে তিনজন সরকারের প্রতিনিধি।
খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে,
সরকারের প্রতিনিধি তিনজন থেকে কমিয়ে একজন করা হবে,
আর স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সদস্য চারজন থেকে বাড়িয়ে ছয়জন করা হবে।
এই কাঠামো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা–মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন খসড়ায় গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে তিন সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্ব দেবেন একজন সাবেক অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা বা সাবেক গভর্নর।
এ ছাড়া অপসারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করবে। অর্থাৎ, নির্বাহী কর্তৃপক্ষের একক সিদ্ধান্তে আর গভর্নর অপসারণ করা যাবে না।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, “গভর্নরের মর্যাদা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরিবর্তন ব্যাংকের নীতিগত স্বাধীনতা বাড়াবে।”
এতে করে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব বিধি প্রণয়ন, নিজস্ব বেতন কাঠামো নির্ধারণ, এবং শীর্ষ পর্যায়ের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ নিজেই করতে পারবে।
খসড়ায় ব্যাংকের মূলধন ৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে।
গভর্নর বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জবাবদিহি থাকবে জাতীয় সংসদের কাছে। সংসদীয় কমিটি ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও শুনানি পরিচালনা করবে।
তবে সাবেক ব্যাংকাররা বলছেন, সংসদীয় কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারলে জবাবদিহি দুর্বল হতে পারে।
সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেছেন,
“গভর্নরের মর্যাদা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ক্ষমতা বাড়লে তার অপব্যবহারও ঠেকাতে হবে।”
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“এটা সংবেদনশীল বিষয়, গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে
✅ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নীতিগত সক্ষমতা বাড়বে,
✅ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সহজ হবে,
তবে একই সঙ্গে
⚠️ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সারসংক্ষেপে:
বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ ব্যাংকটির স্বায়ত্তশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর এক যুগান্তকারী উদ্যোগ হতে পারে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং সংসদীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।