google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা: এইচআরডব্লিউর সন্তোষ
বাংলাদেশে গুম, গোপনে আটক রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, বহু প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগোল। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করেছে যে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনো ঘটছে এবং মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে (২০০৯–২০২৪) কর্তৃত্ববাদী শাসন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও বাকস্বাধীনতার দমন বাড়তে থাকে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গোপন আটক ও গুমের ঘটনা তুলে ধরা হলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান তা “অপপ্রচার” বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে আন্দোলনের মুখে হাসিনা সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় এবং একটি গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশন গঠন করে। সেখানে অন্তত ১,৮৫০টি অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, তিন শতাধিক ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। কমিশন সম্প্রতি “আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ” শিরোনামে তথ্যচিত্র প্রকাশ করে।
অভিযোগ ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ থেকে দীর্ঘ আট বছর গোপন সামরিক আটক কেন্দ্রে আটক থাকা মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান। ২০১৬ সালে তিনি নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি চিঠিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান।
সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমরা এমন মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করি। তবে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এখনো ঘটছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের প্রশ্নে উদ্বেগ রয়ে গেছে।”