চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি করদাতা অনলাইনে তাঁদের আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। চলতি বছর সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, সব ব্যক্তি করদাতাকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
গত বছর নির্দিষ্ট এলাকার করদাতা, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তাতে ১৭ লাখেরও বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিবছর মাত্র ৪০ লাখের মতো ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।
এনবিআরের এক বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে, চলতি বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
তবে যেসব করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, তাঁরাও চাইলে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। অন্যদিকে, নিবন্ধনজনিত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে করদাতারা ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করে অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনে কাগুজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এই সময়সীমা ৩১ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, করদাতার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করে সহজেই ই-রিটার্ন জমা দিতে পারেন। কোনো কাগজপত্র আপলোড ছাড়াই তাঁরা তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্ন জমা ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ই-রিটার্ন জমা সহজ করার লক্ষ্যে করদাতাদের জন্য প্রশিক্ষণ, কল সেন্টার ও অনলাইন সহায়তা সেবা চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, করদাতারা চাইলে নিজ নিজ কর অঞ্চলেও সরাসরি গিয়ে ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সহায়তা নিতে পারবেন।