google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 9, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয় ছবির ক্যাপশন: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়
ad728

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১৩তম থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বছরে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা

মন্ত্রিপরিষদ ও অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাব

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি লিখিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তার আগে একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল অর্থ বিভাগেও। প্রস্তাবে ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবও সংযুক্ত করা হয়েছে।

আন্দোলনে শিক্ষকরা

সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ডাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়গুলোতে চলছে কর্মবিরতিও। শনিবার শাহবাগে পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে তাঁদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে, যাতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন।

শিক্ষকদের অন্য দুটি দাবি হলো —
১. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি, এবং
২. চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান।

১১তম গ্রেডে গেলে কত খরচ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে করলে বছরে অতিরিক্ত ৮৩২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ভবিষ্যতে শূন্য থাকা ১৭ হাজার ৮টি পদে নিয়োগ দেওয়া হলে আরও প্রায় ৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

জাতীয় বেতন স্কেলে:

  • ১০ম গ্রেডে শুরুর বেতন: ১৬,০০০ টাকা

  • ১১তম গ্রেডে শুরুর বেতন: ১২,৫০০ টাকা

  • ১৩তম গ্রেডে শুরুর বেতন: ১১,০০০ টাকা

এর সঙ্গে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়।

শিক্ষকদের যোগ্যতা ও যৌক্তিকতা

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি, যা অনেক মন্ত্রণালয়ের ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সমমানের। তাই তাদের কাজের গুণগত ও পরিমাণগত বৃদ্ধি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করে বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা যৌক্তিক।

বর্তমান অবস্থা

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। শিক্ষার্থী সংখ্যা এক কোটি ছয় লাখের বেশি, এবং শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন, যেখানে অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি।

উপদেষ্টার বক্তব্য

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, “সহকারী শিক্ষকেরা যাতে ১১তম গ্রেড পেতে পারেন, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নতুন বেতন কমিশনকেও জানানো হয়েছে।”

প্রেক্ষাপট

বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে, আর প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পান। সম্প্রতি আদালতের রায়ের পর ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ায় দেশজুড়ে সব প্রধান শিক্ষকের বেতনও একই গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।

এবার সহকারী শিক্ষকদের বেতন উন্নীত করার উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই জানানো হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ