google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, আলোচনার মাধ্যমেই সমঝোতা সম্ভব
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নপদ্ধতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এবং রাজনৈতিক জোট–সমঝোতা নিয়ে কথা বলেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা মতামত দিয়েছেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানেই নিরপেক্ষতা। অন্তর্বর্তী সরকারকেও সেই ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি মনে করেন, সরকারের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।
বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে সাকি বলেন, “যদি অভিযোগ থাকে, তাহলে সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করা উচিত। অভিযোগের মাধ্যমে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাই সরকারকে অবশ্যই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।”
সাকি বলেন, “বড় দলগুলো প্রাধান্য পেয়েছে, এটা ঠিক। তবে প্রত্যেক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার ছিল। সিদ্ধান্ত যেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে না হয়, সেদিকেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, সনদের বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে মোটামুটি ঐকমত্য হয়েছে। এখন বিতর্ক মূলত “আদেশ না অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে” – এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ।
জামায়াত গণভোট আগেই করতে চাইলেও সাকি মনে করেন, একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন আয়োজন করাই উত্তম। তাঁর ভাষায়, “দুই ক্ষেত্রেই ফলাফলের তাৎপর্য একই থাকবে।”
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পারস্পরিক বক্তব্যে উত্তেজনা বাড়ছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন,
“দলগুলো যেন সংঘাতের পথে না যায়। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকুক, কিন্তু তা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়—এই দায়িত্ব দলগুলোর সঙ্গে সরকারেরও।”
অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও সাকি জানান, “প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন আছে।”
তবে তিনি আশাবাদী, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠিত হলে নির্বাচনী পরিবেশ অনেক উন্নত হবে।
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার প্রশ্নে সাকি বলেন,
“গণতন্ত্র মঞ্চের প্রার্থী তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনে আমার প্রার্থিতা ঘোষণা হয়েছে। বিএনপির সঙ্গেও সমঝোতার আলোচনা চলছে, যা আরও স্পষ্ট হতে পারে।”
তিনি জানান, গণতন্ত্র মঞ্চের ছয়টি দলসহ নয়টি রাজনৈতিক সংগঠন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করছে।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট জোট বা বলয় গঠন হয়নি, আলোচনা চলছে।
সাকি বলেন, “আমরা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম, তাই একটি নির্বাচনী সমঝোতা ও জোট গঠনের দিকেই কাজ করছি। বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
সংক্ষিপ্তসার:
জোনায়েদ সাকি জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আলোচনার মধ্য দিয়েই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।