টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসনের অভিযোগ এনে দলের ১১ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। সোমবার গভীর রাতে পাঁচজন এবং মঙ্গলবার দুপুর দুইটার মধ্যে আরও ছয়জন তাদের পদত্যাগপত্র ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন।
সখীপুর উপজেলা বিএনপির সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সাজু জানান, একই অভিযোগ নিয়ে আরও দুই শতাধিক ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন:
-
সোমবার পদত্যাগ করা পাঁচ নেতা: উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাসেদ, সহসভাপতি আবদুল মান্নান, সদস্য আশরাফুল আলম, গজারিয়া ইউনিয়ন সভাপতি আবদুর রউফ, বহুরিয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক লতিফ মিয়া।
-
মঙ্গলবার পর্যন্ত পদত্যাগকারী ছয় নেতা: সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি শাজাহান সাজু, গজারিয়া ইউনিয়ন সদস্যসচিব মো. মজিবর ফকির, গজারিয়া যুবদলের আহ্বায়ক মো. রবিউল আউয়াল, সদস্যসচিব মো. বিপ্লব, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান।
আহমেদ আযম খান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনের এবারের মনোনীত প্রার্থী। তিনি এর আগে ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন।
পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করেছেন, আযম খান ভোট টানার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং বিভিন্ন প্রচারসভায় তাদের সামনের সারিতে বসাচ্ছেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাসেদ বলেন, ‘নেতা আমাদের মূল্যায়ন না করে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে আমাদের বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়।’
শাজাহান সাজু আরও বলেন, আযম খান নিজেকে হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রচার করেছেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন। তারা আহমেদ আযম খানের মনোনয়ন বাতিলের দাবি করেছেন।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন দাবি করেছেন, ‘দলের ভেতরে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। পদত্যাগকারীরা শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হওয়ার আগে পদত্যাগ করেছেন।’
আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিএনপি ও ধানের শীষের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে, কিন্তু জনগণ এবার ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্রই ধানের শীষের বিজয় আটকাতে পারবে না।’