জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি একসময় থরথর করে কেঁপেছিল—‘মুন্না! মুন্না!’ স্লোগানে। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে মতিউর মুন্নার নাম আজও অমর হয়ে আছে ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেই বিখ্যাত গোল্ডেন গোলের জন্য।
নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্র—অতিরিক্ত সময়ের ৯৮ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে মুন্নার বুলেট গতির শট ভারতের জালে জড়াতেই শেষ বাঁশি। বাংলাদেশ জিতে যায় সেমিফাইনাল।
অদ্ভুত হলেও সেটিই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয়—যদিও নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি ড্র হিসেবেই রেকর্ডে আছে।
আজ মঙ্গলবার রাত আটটায় আবার মুখোমুখি বাংলাদেশ–ভারত। পুরোনো সেই গৌরব ফিরে দেখতে চাইবে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
অমর হয়ে থাকা গোল্ডেন গোলের স্মৃতি
মুন্নার সেই গোল শুধু একটি ম্যাচ নয়, ছিল এক উৎসবমুখর দিন। ফিফার গোল্ডেন গোল নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত সময়ে যে দল গোল করতই জিতত। আর বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র গোল্ডেন গোলটি এসেছে মুন্নার পা থেকে।
রোকনুজ্জামান কাঞ্চন প্রথম গোল করেছিলেন—আরমানের কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন।
পাঁচ মিনিট পর আলভিটো ডি কুনহার শটে ভারত সমতা ফেরায়।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে কাঞ্চন, আরমান, আমিনুল, আলফাজ—সবারই অবদান ছিল অসামান্য।
সেদিনের দল ও স্মৃতিচারণ
বাংলাদেশের ২০০৩ সাফজয়ী দলে ছিলেন:
আমিনুল, সুজন, নজরুল, রজনী, পারভেজ বাবু, হাসান আল মামুন, মতিউর মুন্না, আরমান, জয়, আলফাজ, কাঞ্চন।
কাঞ্চন স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, তাঁর আরেকটি গোল রেফারি দেননি—প্রযুক্তি থাকলে গোলটি হিসেব হতো।
তিনি বলেন, “ভারত সব সময় আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। পরিকল্পনার ঘাটতি আর দলে কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আমরা আজ ২২ বছর ধরে ভারতকে হারাতে পারছি না।”
মুন্না কোথায়?
সেই ম্যাচের নায়ক মুন্না এখন ফুটবল থেকে পুরোপুরি দূরে—ঢাকায় ব্যবসা করছেন। তাঁর বর্তমান অবস্থান অনেক সতীর্থই জানেন না। স্টেডিয়ামে উপস্থিত না থাকলেও তিনি নিশ্চয়ই টিভির পর্দায় চোখ রাখবেন।
ফুটবল কি নতুন নায়ক খুঁজে পাবে?
২২ বছর পর—বাংলাদেশ কি আবার ভারতের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পাবে?
হামজা চৌধুরী?
শমিত সোম?
রাকিব হোসেন?
নাকি নতুন কোনো মুখ হবে আজকের দিনের মুন্না?
জাতীয় স্টেডিয়াম আজও অপেক্ষায়—আরেকটি স্বপ্নময় মুহূর্তের।