google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: কম খরচে ভ্রমণ: পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন ও সাশ্রয়ের উপায়
দেশে এক হাজারের বেশি পর্যটন স্থান রয়েছে, তবে ঘুরতে গেলে খরচের বিষয়টি অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একটু পরিকল্পনা আর সচেতনতা থাকলে অল্প খরচেও চমৎকার ভ্রমণ উপভোগ করা সম্ভব। পরিবহন, থাকা ও খাবারে পরিকল্পনা করলে খরচ অনেকটাই কমানো যায়।
ভ্রমণের আগে গন্তব্য, বাজেট ও যাতায়াতের পরিকল্পনা করলে খরচ কমানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে চাইলে অনলাইনে ট্যুর গ্রুপগুলোর পোস্ট দেখে নৌকা বা পরিবহনের আনুমানিক খরচ জানা যায়।
মৌসুমের বাইরে গেলে হোটেল ও খাবারের খরচ অর্ধেকে নেমে আসে। ট্রেন বা নন–এসি বাসে ভ্রমণ করলে ভাড়াও কমে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ঘুরতে গেলে ভিড়ও কম থাকে, ফলে সস্তায় থাকা যায়।
ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান শেয়ারট্রিপের সিইও সাদিয়া হক বলেন,
“অনলাইনে হোটেল, পরিবহন ও ট্যুর প্যাকেজের দাম তুলনা করে বুকিং দিলে খরচ কমানো সম্ভব। ছুটির মৌসুম এড়িয়ে গেলে আরও সাশ্রয় হয়।”
ভ্রমণের আগে বাজেট ঠিক করে নিন—কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, কত দিন থাকবেন।
বান্দরবান বা পাহাড়ি এলাকায় গেলে গাইড নিতে হয়; পরিচিত কারও মাধ্যমে গাইড নিলে কম খরচে পাওয়া যায়।
একসঙ্গে কয়েকজন গেলে গাড়ি বা নৌকার ভাড়া ভাগ করে নেওয়া যায়, ফলে জনপ্রতি খরচ অনেক কমে।
ভ্রমণপ্রেমী কাজী শরীফ বলেন,
“কমিউটার ট্রেন বা নন–এসি বাসে ভ্রমণ করলে ভাড়ার ৫০% পর্যন্ত সাশ্রয় করা যায়। রাতে যাত্রা করলে হোটেল ভাড়াও বাঁচে।”
দেশে অনেক জায়গা আছে, যেখানে স্বল্প বাজেটে ভ্রমণ সম্ভব।
সাজেক ভ্যালি (চান্দের গাড়ি ভাগাভাগি করে)
জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি (সিএনজি বা লেগুনায় দলগত ভ্রমণ)
লালাখাল, কলমাকান্দা, সীতাকুণ্ড ও মহেশখালী
টাঙ্গুয়ার হাওর (ব্যাকপ্যাকারদের জন্য জনপ্রিয়)
শ্রীমঙ্গল (পরিবার নিয়ে স্বল্প খরচে ভ্রমণযোগ্য স্থান)
টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন,
“দেশে ব্যাকপ্যাকার ভ্রমণের জন্য টাঙ্গুয়ার হাওর সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য। ট্রেন ও নন–এসি বাসে ভ্রমণ করলে খরচ আরও কমে।”
হোস্টেল, ডরমিটরি, গেস্টহাউস বা হোমস্টে বেছে নিলে থাকা অনেক সস্তা হয়।
রাঙামাটিতে স্থানীয়দের বাড়িতে থাকা যায়, সুন্দরবনে ট্রলার ভাড়া ভাগাভাগি করেও থাকা সম্ভব।
কক্সবাজার বা সেন্ট মার্টিনে অক্টোবর–নভেম্বর বা ফেব্রুয়ারি–মার্চে গেলে হোটেল ভাড়া প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
ভ্রমণকারী তারিফ আশরাফ বলেন,
“আমরা দলগতভাবে ভ্রমণ করি—যানবাহন ভাগাভাগি করলে জনপ্রতি খরচ কমে যায়।”
খাবারে সাশ্রয় করতে চাইলে স্থানীয় রেস্তোরাঁ বা ছোট হোটেল বেছে নিন।
১২০ টাকায় ভাত, মুরগি, সবজি ও ডাল খাওয়া যায়; ডিমের পদে খরচ পড়ে মাত্র ৬০ টাকা।
স্থানীয় খাবার খেলে দাম কম, স্বাদ ভালো—এবং জায়গাভেদে ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়।
ভ্রমণ চলচ্চিত্র নির্মাতা দিহান চৌধুরী বলেন,
“বন্ধুদের বাসায় থাকা ও স্থানীয়দের পরামর্শে খাওয়া–দাওয়ার পরিকল্পনা করলে খরচ অনেকটাই কমানো যায়।”
ভ্রমণে খরচ কমানোর মূল কৌশল হলো—সঠিক পরিকল্পনা, দলগত ভ্রমণ, নন–এসি পরিবহন, মৌসুমের বাইরে যাত্রা, স্থানীয় খাবার ও হোমস্টে ব্যবহার।
অল্প খরচেও ভ্রমণ হতে পারে আনন্দদায়ক, যদি পরিকল্পনাটা হয় বুদ্ধিমানের মতো! 🌿