google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশের-প্রথম-‘কার্বন-নিরপেক্ষ’-শিশু
বাংলাদেশে পরিবেশ সচেতনতার নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে মাত্র আট মাস বয়সী শিশু আয়ান খান রুহাব। তার জন্মকে স্মরণীয় ও প্রকৃতিপ্রেমী করে তুলতে মা–বাবা সাতক্ষীরার বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়েছেন ৫৮০টি ফলদ ও বনজ গাছ। এই উদ্যোগকে ভিত্তি করে আয়ানকে দেশের প্রথম ‘কার্বন-নিরপেক্ষ শিশু’ ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর ঢাকার বসুন্ধরার আইইউবি মাল্টিপারপাস হলে ঢাকা প্ল্যান্টার্স এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিসিসিএডির যৌথ আয়োজনে আয়ানকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এর আগে বিশ্বের প্রথম কার্বন–নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল ভারতের তামিলনাড়ুর শিশু আদাভি। জন্মের আগেই তার মা–বাবা প্রায় ছয় হাজার গাছ লাগিয়েছিলেন। কার্বন–নিরপেক্ষ বলতে বোঝায়, একজন মানুষের জীবনযাপনে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, সেটি শোষণের উপযোগী পরিমাণ গাছ বা প্রকৃতি রক্ষা করা।
আয়ানের মা আয়শা আক্তার বললেন, সন্তানকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিতে গাছ লাগানোর চিন্তা থেকে এই উদ্যোগ। তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা দুর্যোগপ্রবণ এলাকা বিধায় গাছগুলো আত্মীয়দের জমিতে লাগানো হয়েছে যাতে যত্ন নেওয়া সহজ হয়। শুধু আয়ান নয়, গ্রামের অন্যান্য শিশুদেরও এসব ফল খাওয়ার সুযোগ হবে।
আয়ানের বাবা ইমরান রাব্বী ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিনম্যান’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন মানুষের বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ শোষণ করতে ৫৪টি কাঁঠালগাছ লাগে। সেই হিসেবে সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিবেশগত নিরাপত্তা মাথায় রেখে প্রথমে ৫৪টি গাছ লাগানোর ভাবনা থাকলেও পরে সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫৮০টিতে।
আইসিসিসিএডির তরফ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র গাছ লাগানোই নয়—নিয়মিত তদারকি, গাছ নষ্ট হলে নতুন গাছ লাগানোসহ সব দরকারি দিক বিবেচনা করা হয় এই স্বীকৃতির ক্ষেত্রে। পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
এখন অপেক্ষা, বড় হয়ে আয়ান কেমন পরিবেশপ্রেমী হয়ে ওঠে। তবে এই মুহূর্তে আট মাসের শিশুটি শত শত গাছের ‘মালিক’—এটাই দেশের অনেক মানুষের কাছে অসাধারণ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। 🌱✨