google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: মণিপুরে-আশ্রয়শিবির-বন্ধের-পরিকল্পনায়-গৃহহীনদের-উদ্বেগ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে দুই বছর আগে সংঘটিত জাতিগত সংঘাতের কারণে স্থায়ীভাবে গৃহহীন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। রাজ্য সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে সব অস্থায়ী আশ্রয়শিবির বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে।
২০২৩ সালের মে মাসে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই ও আদিবাদী খ্রিষ্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। মেইতেই সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে আদিবাসী স্বীকৃতি দাবি করলে কুকিরা প্রতিবাদ করে। সংঘাতের ফলে দুই বছরে প্রায় ২৬০ জন নিহত এবং ৬০,০০০ মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করতে বাধ্য হন।
সরকার বারবার পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকেরা ইম্ফল ভ্যালিতে, কুকিরা পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছে। নিরাপত্তা বাহিনী দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বাফার জোনে টহল চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গৃহহীনদের নিজেদের এলাকায় পুনর্বাসন করা অপরিহার্য, যাতে সামাজিক মানচিত্র হিংসার কারণে পরিবর্তিত না হয়।
চিফ সেক্রেটারি ঘোষণা করেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সব আশ্রয়শিবির বন্ধ করা হবে এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৭,০০০ নতুন ঘর নির্মাণ করা হবে। তবে কোথায় এবং কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
দীর্ঘদিন আশ্রয়শিবিরে থাকা মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেক কুকি ও মেইতেই বাসিন্দা বাড়ি ফিরতে চান, তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা ভয় পাচ্ছেন।
মণিপুর গভর্নরের সচিব আর কে নিমাই সিং বলেছেন, "মানুষকে তাদের নিজ বাড়িতে পুনর্বাসন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভারতের জন্য ভালো।" সরকারি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, পুনর্বাসন পরিকল্পনা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে এবং আশ্রয়শিবিরের সংখ্যা কমানো হচ্ছে।