শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নান আদালতে দাবি করেছেন, তিনি ওই মোটরসাইকেল আগেই বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রমাণের জন্য হান্নান র্যাব ও পুলিশকে শোরুমে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তা করা হয়নি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার মতিঝিল এলাকায় গণসংযোগ শেষে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকাকালীন তাঁকে গুলি করা হয়। বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদির অবস্থা সংকটজনক।
ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার সময় ব্যবহৃত হোন্ডা মোটরসাইকেলের মালিক হান্নানকে শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করে র্যাব।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রোববার হান্নানকে আদালতে হাজির করা হয়। পল্টন থানার উপপরিদর্শক সামিম হাসান তাঁর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি পরিচালনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, “ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় যে হোন্ডা ব্যবহার হয়েছে, সেটির মালিকানা যাচাই করা হয়েছে। হত্যাকারীদের সঙ্গে মালিকের সম্পর্ক যাচাই করতে হলে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।”
আদালতে হান্নান নিজেও বলেন, “গ্রেপ্তারের পর র্যাব ও পুলিশকে বলেছিলাম শোরুমে নিয়ে যাওয়া হোক, সব সত্যি বেরিয়ে আসবে। আমি মিরপুর মাজার রোড থেকে বাইকটি কিনেছিলাম। অসুস্থতার কারণে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য শোরুমে যেতে পারিনি।”
শুনানি শেষে আদালত হান্নানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।