google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন চার বাংলাদেশি নাবিক

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 30, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: কৃষ্ণসাগরে-ইউক্রেনের-ড্রোন-হামলা:-মৃত্যুর-মুখ-থেকে-ফিরে-এলেন-চার-বাংলাদেশি-নাবিক ছবির ক্যাপশন: কৃষ্ণসাগরে-ইউক্রেনের-ড্রোন-হামলা:-মৃত্যুর-মুখ-থেকে-ফিরে-এলেন-চার-বাংলাদেশি-নাবিক
ad728

কৃষ্ণসাগরে তেলবাহী জাহাজ এমটি কায়রোস-এ ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ড্রোন হামলার ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আতঙ্কে ভরা সেই মুহূর্তগুলোর কথা জানালেন জাহাজটির চতুর্থ প্রকৌশলী, বাংলাদেশের নরসিংদীর মাহফুজুল ইসলাম। হোয়াটসঅ্যাপে আজ রোববার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরপর বিস্ফোরণ ও আগুন জ্বলে ওঠার পর তাঁদের ভাবতে হয়েছিল শেষ মুহূর্তের কথা।

হামলার শিকার ট্যাংকারে চার বাংলাদেশি

গত শুক্রবার তুরস্কের উপকূল পেরিয়ে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়াগামী অবস্থায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনের নৌবাহিনী। এই ট্যাংকারগুলোর একটি এমটি কায়রোস, যেখানে থাকা ২৫ নাবিকের মধ্যে চারজনই ছিলেন বাংলাদেশি—

  • মাহফুজুল ইসলাম (নরসিংদি),

  • আল আমিন (কুষ্টিয়া),

  • হাবিবুর রহমান (ধামরাই),

  • আজগর হোসাইন (সন্দ্বীপ)।

এঁরা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে এখন তুরস্কের একটি হোটেলে নিরাপদে অবস্থান করছেন।

হামলার ভয়াবহ মুহূর্ত

মাহফুজুল বলেন, স্থানীয় সময় ৪টা ৪৬ মিনিটে প্রথম ড্রোন প্রপেলারে আঘাত করে। বিকট শব্দে পুরো জাহাজ কেঁপে ওঠে। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় ড্রোন আঘাত হানে জ্বালানি ট্যাংকারের দিকে, তখন জাহাজে ছিল ১,১৬৩ টন তেল। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

লাইফবোট নামানোর চেষ্টা করলেও তীব্র বাতাস ও আগুনে সেটিও বিস্ফোরিত হয়। ফলে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া বা অন্য কোনো উপায়ে পালানোর সুযোগ ছিল না।

‘মনে হয়েছিল বাঁচব না’

ঢাকার হাবিবুর রহমান বলেন,
‘আমরা একজন আরেকজনের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিচ্ছিলাম। মনে হয়েছিল, আর বাঁচব না।’

সন্দ্বীপের আজগর হোসাইন জানান, হামলার আগে তিনি তিনটি দ্রুতগামী নৌযান দেখতে পান, পরে বুঝতে পারেন সেগুলো আসলে ড্রোন।

উদ্ধারে তুরস্ক কোস্টগার্ড

তুরস্কের কোস্টগার্ড এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নাবিকদের উদ্ধার করে। তাঁদের বাঁচা প্রায় অলৌকিক বলেই মনে করছেন সবাই।

বাংলাদেশি সংগঠনের নজরদারি

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে প্রয়োজন হলে সহায়তা নিশ্চিত করতে। তুরস্ক কর্তৃপক্ষ ও জাহাজমালিক সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।

এর আগেও প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলাদেশি নাবিক

২০২২ সালে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রাশিয়ার মিসাইল হামলায় ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে নিহত হয়েছিলেন প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান। এবারও বাংলাদেশি নাবিকরা মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তবে সৌভাগ্যবশত সবাই প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ