google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ঢাকায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা
রাজধানীতে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। চলতি বছরেই কেবল ঢাকায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন অন্তত ১৩৪ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্টোবর মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১০৫ জন এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২৯ জন মারা গেছেন। আক্রান্তের দিক থেকেও দক্ষিণে সংখ্যা বেশি—ডিএনসিসিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৪২ জন, আর ডিএসসিসিতে আক্রান্ত ৭ হাজার ৭৭৬ জন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দুই সিটিতে নতুন করে আরও ২৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৫৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মশা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন,
“যদি কর্তৃপক্ষ সব দায়িত্ব পালন করে থাকে, তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন—এটি একটি বড় প্রশ্ন। চলতি মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে এবং শীতকালেও এই প্রবণতা বজায় থাকবে।”
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশা নিধনে খরচ হয়েছে ১,৩৫৪ কোটি টাকা। শুধু ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ডিএসসিসিতে ৪৪ কোটি টাকা এবং ডিএনসিসিতে ১১০ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছর ২০২৫–২৬ এ দক্ষিণে বরাদ্দ বেড়ে ৪৫ কোটি টাকা এবং উত্তরে ১৮৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল-বিকালে প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইডিং ও এডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ড্রেন, ডোবা, খাল ও নর্দমায় পানি প্রবাহ না থাকায় এবং আবর্জনা জমে থাকায় মশার প্রজনন বেড়ে গেছে।
ডিএনসিসি মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর সহযোগিতা নিলেও দক্ষিণে তা হয়নি। এ ছাড়া নতুন মেশিন ও কমিটি গঠন করা হলেও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাঠামোগত সমস্যা সমাধান ছাড়া কেবল বাজেট ও কীটনাশক দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ফলে রাজধানীর বাসিন্দাদের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।