google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: গাজায়-এখনো-প্রতিরোধের-প্রতীক-চে-গুয়েভারা
অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় আগে বলিভিয়ার পাহাড়ে থেমেছিল আর্জেন্টাইন বিপ্লবী আর্নেস্তো চে গুয়েভারার সংগ্রাম, কিন্তু তাঁর বিপ্লবী দর্শন আজও বেঁচে আছে গাজার রাস্তায়, দেয়ালের গ্রাফিতিতে, শরণার্থীশিবিরের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এবং ফিলিস্তিনের প্রতিরোধচেতনায়।
১৯৫৯ সালে কিউবান বিপ্লবের পর চে গুয়েভারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সংগ্রামের আহ্বান জানান। সেই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে নিয়ে আসে ফিলিস্তিনের মাটিতে। কিউবার বিজয়ের কয়েক মাস পর, ১৯৫৯ সালের জুনে তিনি গাজা উপত্যকায় আসেন—যেখানে তখনো শরণার্থীশিবিরে ফিলিস্তিনিদের দুঃসহ জীবন চলছিল। মাত্র দুই দিনের সফরে তিনি আল-বুরেইজ ও আন-নুসেইরাত শিবির পরিদর্শন করেন, প্রতিরোধ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সামরিক প্রশিক্ষণের অগ্রগতি দেখেন।
চে গুয়েভারার এই সফর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি সংগ্রামকে বিশ্বব্যাপী মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত করে। তিনি ফিলিস্তিনের আন্দোলনকে মানবিক সংকট নয়, বরং জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। সেই প্রতীকী সমর্থন দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক চিন্তায়।
ষাট ও সত্তরের দশকে পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি)সহ বামপন্থী সংগঠনগুলো চের বিপ্লবী কৌশল—বিশেষত “ফোকো তত্ত্ব”—অনুসরণ শুরু করে। তাঁর প্রতিকৃতি আঁকা হতো শরণার্থীশিবিরের দেয়ালজুড়ে, আর ছড়িয়ে পড়ে তাঁর স্লোগান—
“বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
গাজায় এখনো তাঁর উপস্থিতি অনুভব করা যায়। রাস্তা, ক্যাফে ও দেয়ালের ম্যুরালে চে—গামাল আবদেল নাসের ও ইয়াসির আরাফাতের পাশাপাশি প্রতিরোধের প্রতীক। নুসেইরাতে প্রতিষ্ঠিত চে গুয়েভারা কালচারাল ক্লাব সেই উত্তরাধিকার বহন করে চলছে।
খান ইউনিসের এক শিল্পী চের ছবির নিচে লিখেছিলেন—
“চে বলিভিয়ায় মারা যাননি… তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি রাস্তায়, যেখানে প্রতিরোধ চলছে।”
চে নিজেই বলেছিলেন—
“যেখানেই অন্যায় থাকবে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।”
এই দর্শনই আজ ফিলিস্তিনের সংগ্রামে তাঁকে জীবন্ত রাখে—সিয়েরা মায়েস্ত্রা থেকে গাজার প্রতিরোধের মোর্চা পর্যন্ত তাঁর উত্তরাধিকার মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় অটুট হয়ে আছে।