প্রায় পাঁচ বছর ধরে টানাপোড়েনের পর ২০২৫ সালে চীন ও ভারতের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতি পেয়েছে। এই সময়ে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও লেনদেন বেড়েছে, এবং চীনা সরকার মার্চ মাসে ভারতীয় নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, ভিসানীতি শিথিল করে। ফলে ভারতীয়দের চীনে ভ্রমণ সহজ হয়েছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয়দের নিয়ে বিরূপ মনোভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সাবওয়েতে হাত দিয়ে খাবার খাওয়া বা পর্যটনস্থলে গোসল করার মতো কিছু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও বর্ণবাদী মন্তব্য শুরু হয়। অনেক চীনা নেটিজেন দাবি করে, চীনে সব ভারতীয়কে বহিষ্কারের দাবি করা উচিত।
ভুল তথ্য ও প্রচলিত ধ্যানধারণার কারণে এমন মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় অভিবাসীরা নাকি অন্য দেশে জায়গা দখল করছে বা চীনে অবৈধভাবে থেকে যাচ্ছে—এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বাস্তবে চীনের মূল ভূখণ্ডে মাত্র ৮,৪৬০ ভারতীয় প্রবাসী রয়েছেন, যা হংকং, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় অনেক কম।
চীনা সামাজিক মাধ্যমের বদ্ধ পরিবেশ, ভারতবিরোধী জাতীয়তাবাদী মনোভাব এবং মূলধারার সমালোচনার অভাব এসব ভুল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে চীনা সরকার সরকারিভাবে এই মনোভাবকে সমর্থন করে না; বরং বিদেশি ভিসা শিথিলকরণ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছে। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভারতবিরোধী বক্তব্য একটি সামষ্টিক উদ্বেগের প্রতিফলন। শ্রমিক সংকট, বিদেশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচি এবং জাতীয়তাবাদী ভাষ্যের কারণে ভারতীয়রা অনলাইনে চীনের গণমাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
গবেষক ঝেনলিন চুই উল্লেখ করেছেন, জাতীয়তাবাদী ভাষ্য গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। সরকার যখন উগ্র মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এই পরিস্থিতি ভারতের সাথে চীনের সম্পর্ক ও জনগণের সচেতনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।