google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামের কুখ্যাত ‘সন্ত্রাসী’ বুইস্যা: চুরি থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ‘গডফাদার’
চুরি ও ছিনতাই দিয়ে অপরাধজগতের যাত্রা শুরু। এরপর মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে গড়ে তোলা নিজস্ব বাহিনী। নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘কিশোর গ্যাং নেতা’। পুলিশের খাতায় একের পর এক মামলা। এমনই এক আলোচিত নাম চট্টগ্রামের শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা—চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক।
পুলিশ জানায়, চাঁদা না পেলেই শহীদুল ও তাঁর সহযোগীরা গুলি ছোড়েন। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশ বাদুরতলা এলাকায় বুইস্যার সহযোগী মুন্না প্রকাশ্যে গুলি ছোড়েন—ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এ ছাড়া গত বছরের ১০ নভেম্বর চাঁদা না পেয়ে চান্দগাঁও থানার পাশে একটি গ্যারেজে গুলি করেন স্বয়ং শহীদুল। গ্যারেজ মালিক জানান, তাঁকে ফোনে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়, না দেওয়ায় গুলি চালানো হয়।
ভোলার দৌলতখান থানার মোহাম্মদ আলীর ছেলে শহীদুল তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের পশ্চিম ষোলোশহরে বসবাস করেন। শুরুতে চুরি–ছিনতাই করলেও পরে হাতে তুলে নেন অস্ত্র।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমাবেশে অংশ নিয়ে নিজেকে ‘ছাত্রলীগ নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না।
চান্দগাঁও–পাঁচলাইশ এলাকায় ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করেন শহীদুল। তাঁর সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে আইয়ুব আলী, ইদ্রিস, ইয়াসিন, শিবু, রাকিব ও সবুজ।
৯ অক্টোবর পুলিশের অভিযানে তাঁর তিন সহযোগীর কাছ থেকে ১৩টি দেশি–বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩টি ম্যাগাজিন ও ৫৮টি বুলেট উদ্ধার করা হয়। শহীদুলের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা, যার মধ্যে ৮টি অস্ত্র মামলা।
২০২৩ সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও তিন মাসের মাথায় জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে যুক্ত হন। এরপর থেকে পুলিশ তাঁকে ধরতে ব্যর্থ।
চান্দগাঁওয়ের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার এক ফ্ল্যাটে ‘টর্চার সেল’ গড়ে তোলেন শহীদুল।
গত ২১ জুলাই পুলিশের অভিযানে সেখানে ১১ সহযোগী গ্রেপ্তার হয়। উদ্ধার হয় দেশি অস্ত্র, গুলি ও থানা থেকে লুট হওয়া গুলির খোসা।
পুলিশ জানায়, যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করত, তাদের এই সেলে এনে নির্যাতন করা হতো। সেখানে প্লায়ার্স, রামদা, সিসিটিভি ক্যামেরা—সবই ছিল প্রস্তুত।
১০ অক্টোবর নগরের শুলকবহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহীদুলের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যে পুলিশ একটি ভবন থেকে টাকা গণনার যন্ত্র, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ব্যাংকের মতো এই যন্ত্র দিয়েই বুইস্যা চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার টাকা গুনতেন।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির জানান, শহীদুল ও তাঁর বাহিনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয় সৃষ্টি করছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, ইতিমধ্যে কয়েকজন সহযোগী ধরা পড়েছেন।
বহদ্দারহাট এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান,
“গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে আবার প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে বুইস্যা। আমরা প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি—কখন কী হয়ে যায়।”