google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা: ১৫ মাস পরও একাধিক পরিসংখ্যানে বিভ্রান্তি
জুলাই অভ্যুত্থানে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন—এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। ১৫ মাস পার হলেও সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া সংখ্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিস্তর অমিল। কেউ বলছেন ৮৩৬, কেউ বলছেন ১ হাজার ৪০০, আবার কেউ দাবি করছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
গত বছরের জুলাইয়ের শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন–পীড়নের মুখে এই আন্দোলন রক্তাক্ত রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে গণ–অভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ ও আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথমে ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করে, পরে জুন মাসে আরও ১০ জন যুক্ত হলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪৪। তবে আগস্টে পুনর্বিবেচনার পর আটজনের নাম বাদ দিলে সরকারি গেজেট অনুযায়ী এখন জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৩৬।
তবে এই হিসাব নিয়েও সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও অনেকের নাম শহীদ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। আবার কিছু নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, “এত দিনেও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি না হওয়া সরকারের ব্যর্থতা। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো আবারও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।”
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে গঠিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮২০ জনের বেশি। ওয়েবসাইটে তালিকায় ৮৪৫ জনের নাম রয়েছে।
অন্যদিকে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠন বলছে, শহীদের সংখ্যা ৯১৪ জন, এবং আরও ৬০০ জনের তথ্য তাদের কাছে আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন ভাষণে শহীদের সংখ্যা ভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন। কখনও “প্রায় দেড় হাজার”, কখনও “হাজার হাজার”, আবার সাম্প্রতিক ভাষণে “৮৩৪ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে” বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫–এ বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং ২০ হাজারের বেশি আহত হন।
জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থে ৭১৬ জনের নাম প্রকাশ করেছে, তবে দাবি করেছে এই সংখ্যা আরও বড় হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষায়, “জুলাই আন্দোলনে দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।”
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন জাতিসংঘের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে; জাতিসংঘের মতে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন।”
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী তালিকা হওয়া উচিত ১ হাজার ৪০০ জনের। কিন্তু সরকার কখনও বলে ৭০০, কখনও ১ হাজার।”
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভসংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ জন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, “জাতিসংঘের প্রতিবেদন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা এখনো ৮৩৬। কিছু নতুন তথ্য যাচাই চলছে, তবে ১,৪০০ জন পর্যন্ত সংখ্যা পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই।”
তিনি আরও জানান, “ঢাকার রায়েরবাজার কবরস্থানে কিছু অজ্ঞাতনামা লাশের ডিএনএ পরীক্ষা চলছে। মিলে গেলে সংখ্যা সামান্য বাড়তে পারে।”