google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বে আপিল বিভাগ আজ লিভ মঞ্জুর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিধি বাতিল রায়ের আপিল শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিধি বাতিল রায়ের আপিল শুনবে
সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিধি বাতিলের ২০১১ সালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনবে। আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আগামী ২১ অক্টোবর এই শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছিল। পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য করা আবেদন নিয়ে আজ লিভ মঞ্জুর (আপিলের অনুমতি) করে আদেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে আইনজীবীরা লিভ মঞ্জুর না করলেও রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা প্রথা অনুসরণ করব। লিভ দিয়ে পুরো বিষয়টি শুনব।” পরে আদালত লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছিল।
রিভিউ আবেদনকারীর মধ্যে রয়েছেন:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
নওগাঁর রানীনগরের মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন
বুধবারের শুনানিতে বিএনপির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, মো. রুহুল কুদ্দুস এবং কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আরশাদুর রউফ। এছাড়া পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইয়া এবং অন্য রিভিউ আবেদনকারীর পক্ষে এ এস এম শাহরিয়ার কবির। ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক।
মামলার পূর্বপট:
১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। হাইকোর্ট ২০০৪ সালে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে সরাসরি আপিলের অনুমতি মঞ্জুর হয়ে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘোষণা করে।
রায়ের পর পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে এই আইন চ্যালেঞ্জ করে সুজনের সম্পাদক ও আরও চার ব্যক্তি রিট করেন। হাইকোর্ট ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিধি বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পর্কিত কিছু ধারাকে বাতিল ঘোষণা করে।
আপিলের সঙ্গে রিভিউ আবেদনগুলোও শুনানির জন্য আগামী ২১ অক্টোবর কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে।