google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য মনে করছেন, এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলা ও ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জরুরি।
সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দলের নির্বাহী কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসন্ন নির্বাচন, সম্ভাব্য জোট, দলীয় কৌশল ও নানা প্রচার ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ৩০ জনের বেশি সদস্যের বেশির ভাগই এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “দলটি ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। প্রার্থী নির্ধারণ ও মনোনয়ন জমার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশিরভাগ সদস্য মনে করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে এনসিপির স্বাধীনভাবে নির্বাচনে যাওয়া উচিত।”
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে গঠিত এই দলটি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন দল হিসেবে এনসিপি ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদন করেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ের সমালোচনা করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে—এনসিপি হয়তো এই দুটি দলের কারও সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে। তবে এনসিপির নির্বাহী সভায় অংশ নেওয়া নেতারা বলছেন, দলটির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ও ভাবমূর্তির জন্য স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করাই সবচেয়ে যৌক্তিক পথ।
একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই এনসিপিকে সঙ্গে রাখতে আগ্রহী। কিন্তু কোনো দলের ছায়ায় গিয়ে কয়েকটি আসনে জেতা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি দাঁড়াবে না। বিএনপির নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় নিতে হবে, আর জামায়াতের সঙ্গে গেলে ঐতিহাসিক দায়ভার বহন করতে হবে—তাই স্বাধীন অবস্থানই সবচেয়ে ভালো।”
সভায় গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দল, এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে সম্ভাব্য একটি তৃতীয় জোটের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়। শীর্ষ নেতারা জানান, অনেক ছোট দল জোটে আগ্রহী হলেও তারা এখনো বিএনপির সঙ্গে আংশিকভাবে সমঝোতায় রয়েছে। তারা সরে এলে “জুলাই সনদ বাস্তবায়নভিত্তিক তৃতীয় জোট” গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এনসিপিকে নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের বিষয়েও আলোচনা হয় সভায়। নেতারা সেসব প্রতিবেদনের তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে সেগুলো পর্যালোচনা করেন।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ৩০ জনের বেশি নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে দুই মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ঢাকার বাইরে থাকায় অনুপস্থিত ছিলেন।