১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বগুড়া–৭, ঢাকা–৫, ঢাকা–৯, ফেনী–১ ও চট্টগ্রাম–৮—এই পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রতিটি আসনেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে স্থান করে নেন।
১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও খালেদা জিয়া বগুড়া–৬, বগুড়া–৭, ফেনী–১, লক্ষ্মীপুর–২ ও চট্টগ্রাম–১—এই পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে সব কটিতেই বিজয়ী হন।
এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া আবারও পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বগুড়া–৬, বগুড়া–৭, খুলনা–২, ফেনী–১ ও লক্ষ্মীপুর–২ আসন থেকে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।
এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। সে নির্বাচনে খালেদা জিয়া ফেনী–১ ও ২, বগুড়া–৭, সিরাজগঞ্জ–২ ও রাজশাহী–২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন এবং টানা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তবে একতরফা নির্বাচনের কারণে ওই সংসদ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই সংসদেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হলেও শপথ নেওয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন একজন প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সীমা নির্ধারণ করলে খালেদা জিয়া বগুড়া–৬, বগুড়া–৭ ও ফেনী–১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তিনটি আসনেই তিনি বিজয়ী হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আপসহীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দল-মতনির্বিশেষে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অনেকেই ধারণা করেছিলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু খালেদা জিয়ার একটি টেলিভিশন ভাষণ নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আচরণ, সংযত বক্তব্য ও দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি ভোটের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হন বলেও মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।