google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জজ নিয়োগে বাদ পড়লেন ১৩ প্রার্থী: মেধার স্বাক্ষরেও থমকে গেল স্বপ্ন
নওগাঁর মমতাজ বেগম, একজন সাধারণ গৃহিণী, ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আনন্দের শীর্ষে ছিলেন। তার বড় ছেলে মাহমুদুল হোসেন মুন্না ১৭তম সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পাড়াপ্রতিবেশীরা তাঁকে ‘জজের মা’ বলে ডাকতে শুরু করেছিলেন।
কিন্তু মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে সেই আনন্দ আজ কষ্টে রূপ নিয়েছে। ২৭ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয় সহকারী জজ নিয়োগের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করলে মাহমুদুলের নামসহ ১৩ জন প্রার্থীর নাম পাওয়া যায়নি। বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
মমতাজ বেগম প্রথম আলোকে বলেন, “আমার ছেলে মেধার স্বাক্ষর রেখে জজের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও পুলিশি নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে।”
বাদ পড়া ১৩ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন—মাহমুদুল হোসেন মুন্না, তানসেনা হোসেন মনীষা, অনিক আহমেদ, গগন পাল, নিশাত মনি, নাহিম হাসান, রেজাউল ইসলাম, সাজ্জাদুল হক, সাইমন সৈয়দ, মামুন হোসেন, সাদিকুর রহমান, সুব্রত পোদ্দার ও হুমায়রা মেহনাজ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাইমন সৈয়দ অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে তিনি বাদ পড়েছেন। অনিক আহমেদও একই ধরনের অন্যায় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরের লিখিত ও চলতি বছরের মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১০২ জনকে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। কিন্তু ২৭ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেটে কেবল ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, “১৩ জন প্রার্থীর নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়নি। অস্পষ্ট পুলিশি প্রতিবেদন থাকায় পুনরায় মতামত চাওয়া হয়েছে। তাদের নিয়োগ কিছুদিন পরে হলেও সিনিয়রিটিতে প্রভাব পড়বে না।”
বিশিষ্ট আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, “সংবিধান, মেধা ও যোগ্যতা উপেক্ষা করে পুরনো পুলিশি প্রতিবেদন প্রথা মেনে ১৩ জন প্রার্থীকে আটকানো হয়েছে।” ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে দ্রুত সংশোধিত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।