google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বিচারব্যবস্থার-পূর্ণ-সংস্কারের-জন্য-উচ্চ-আদালতের-সংস্কারও-জরুরি:-আসিফ-নজরুল
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, শুধু নিম্ন আদালতের সংস্কার করলেই হবে না; উচ্চ আদালতের সংস্কার ছাড়া বিচারব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কার সম্ভব নয়। তাঁর মতে, নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হলেও উচ্চ আদালতে সেগুলো বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।
বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল জানান, ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রম বিচারপ্রক্রিয়াকে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর তথ্য সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে, ফলে পুরোনো ১২ ধাপের জটিল প্রক্রিয়া বাদ পড়বে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিচারব্যবস্থায় সময় কমাতে এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে কাজ করছি। অনলাইনে সরকারি সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সিভিল ও ক্রিমিনাল আদালত পৃথক করে বিচারকদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”
আইন উপদেষ্টা জানান, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের জন্য ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু সেগুলোর একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সচেতন হবেন এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবেন।
“সংস্কার কাজ এখনো শেষ হয়নি, আমরা শেষ সময় পর্যন্ত তা চালিয়ে যাব,” বলেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আসিফ নজরুল বলেন, “একসময় নারায়ণগঞ্জ ছিল নির্যাতনের প্রতীক। সাত খুনসহ ভয়াবহ ঘটনাগুলো এখানেই ঘটেছে। আমরা চাই, এই শহর এখন মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠুক। তাই এখান থেকেই ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বলেন, ই-বেইলবন্ডের সঙ্গে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা গেলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে সেবা পাবে। তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে, যা সরকারি তথ্য আদান-প্রদানকে সহজ করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার মানবিক ও নিরপেক্ষ। মানুষের মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। ‘ই-বেইলবন্ড’ উদ্যোগ তারই প্রমাণ।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা,
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন,
জেলা দায়রা জজ আবু মো. শামীম আজাদ,
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা,
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন,
এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধানসহ বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা।