হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছেন জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু শাখার সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে ঘিরে এলাকায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা চলছে। কৃষ্ণ নন্দী নিশ্চিত করেছেন যে তিনি দল থেকে ইতিবাচক সংকেত পেয়েছেন।
কৃষ্ণ নন্দী বলেন, দল তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁর ভাষায়, “দল আমাকে মোটামুটি নিশ্চিত করেছে। আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই এলাকায় যাব।”
ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দীর বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে। খুলনা-৫ আসনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিভিন্ন সমাবেশে গত এক বছর ধরে তাঁকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এসব সমাবেশে তাঁর নেতৃত্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু শাখার সভাপতি হিসেবে ২০০৩ সাল থেকে রাজনীতিতে যুক্ত কৃষ্ণ নন্দীকে খুলনা-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা হলেও আগে থেকেই সেখানে বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির শেখ আবু ইউসুফকে মনোনয়ন দিয়েছে দল।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা জেলার সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। কিছু আসনে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে বিএনপি এখনো খুলনা-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এখানে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান, জিয়াউর রহমান (পাপুল) এবং পার্থ দেব মণ্ডল। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন কিশোর কুমার রায়।
১৯৯১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ–ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপি কখনো জেতেনি। এখানে দীর্ঘ সময় সংখ্যালঘু প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই আসনের এমপি হিসেবে অধিকাংশ সময়ই নির্বাচিত হয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা।