google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: সরকারের ওপরই দায় বর্তাবে যদি গায়ের জোরে কিছু চাপানো হয়: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার যদি সংস্কারের নামে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় হওয়া সমঝোতার বাইরে গিয়ে জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চায়, তবে এর সমস্ত দায় তাদেরই নিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘ নয় মাস সরকার সংস্কারের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং অনেক বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন যদি সেই একমতের বাইরে কিছু চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে সব দায়দায়িত্ব সরকারের।”
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি—আমাদের কর্মই আমাদের বেহেশতের পথ তৈরি করে। আমি যদি মানুষকে ভালোবাসি, মিথ্যা না বলি, সুদ না খাই, নামাজ পড়ি, রোজা রাখি—তাহলে সেটাই আমার মুক্তির পথ। জামায়াতের টিকিট কাটলেই কেউ বেহেশতে যাবে না।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা মুনাফেকি করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।”
পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এ দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়। আমরা এটা গ্রহণ করব না। কিন্তু জামায়াত বলছে, পিআর পদ্ধতিতেই ভোট করতে হবে, না হলে ভোট হবে না। ভোটকে এত ভয় পাচ্ছে কেন? কারণ, তারা জানে—ভোট হলে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এনসিপিও এখন জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ভোট পেছানো এবং পুরনো ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার এটাই চক্রান্ত।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা সংস্কার আলোচনায় যে বিষয়ে একমত হয়েছি, বিএনপি শুধু সেই অংশের পক্ষে থাকবে। এর বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দিলে তার দায় বিএনপি নেবে না—এ দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, “শিশুদের সুস্থভাবে গড়ে তুলতে শারীরিক শিক্ষা খুব প্রয়োজন। আর শিশুরা গান শিখলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, বরং তারা ভালো কিছু শিখছে।”
নির্বাচন পিছিয়ে দিলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে সতর্ক করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক সরকার গঠনের সময়।”
আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছেন, আর ঢাকায় গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। যারা দেশের সম্পদ নষ্ট করবে, তাদের এই দেশে জায়গা হবে না। সাহস থাকলে ঢাকায় এসে রাজনীতি করুন, দিল্লি থেকে নয়।”
মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন, বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহম্মদ আলীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।