google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: উইনিপেগের সেইন নদীর ধারে এক গাছের বারোমাসি গল্প
দেশ থেকে কানাডায় আসার পর একসময় খুব মন খারাপ থাকত সাখাওয়াত হোসেনের (সাফাত)। ম্যানিটোবার উইনিপেগ শহরে তাঁর বাসার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট নদী সেইন (Seine River)। মন খারাপ হলে তিনি যেতেন নদীর ধারে বসতে। সেখানেই একদিন নজরে আসে একটি গাছ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছিল প্রকৃতির স্রোতে।
হঠাৎই তাঁর মনে হলো—এই গাছের বছরজুড়ে রূপান্তরের গল্পটা যদি ছবিতে বাঁধা যায়!
তারপর শুরু হলো ১২ মাসের সেই প্রকৃতিচক্রের আলোকচিত্র। এক বছর ধরে প্রতি মাসে একই জায়গা থেকে তোলা ১২টি ছবিতে ধরা পড়েছে কানাডার প্রকৃতির ঋতুবৈচিত্র্য ও সময়ের আবর্তন।
বরফ গলে গেছে, নদীতে ফিরে এসেছে কানাডা গুজ বা রাজহাঁস। সূর্যালোকে ভেজা নদীর জল আর গাছের পাশে পাখিদের সাঁতার কাটা দৃশ্যেই যেন শুরু হলো এই বছরচক্রের গল্প।
ধূসর গাছের ডালপালা ভেদ করে ফুটে উঠেছে নতুন সবুজের জীবন। ঘাসে ভরে গেছে চারপাশ। প্রকৃতির রূপান্তরের সৌন্দর্যেই জন্ম নেয় এই প্রকল্পের ধারণা—গাছের বছরচক্রের আলোকচিত্র।
বছরের সবচেয়ে বড় দিন—সূর্যাস্ত রাত ১০টার পর। দীর্ঘ সূর্যালোকে প্রাণে ভরে গেছে প্রকৃতি। নদীর ধারে জংলা ঘাস, ফুল, আর গাছের নতুন পাতা যেন জীবনের জোয়ার বইয়ে দেয়।
বৃষ্টি বাংলাদেশের মতো ঝমঝম করে পড়ে না এখানে, কিন্তু একদিন ঝুম বৃষ্টিতে ছাতা হাতে গিয়ে তোলা ছবিটাই হয়ে গেল জুলাইয়ের প্রতীক। বৃষ্টির সঙ্গে যেন মিশে গেছে প্রবাসের নস্টালজিয়া।
গ্রীষ্মের শেষ সময়। সবুজে ভরা প্রকৃতি যেন বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাখাওয়াতের ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই শেষ সবুজের দিনগুলো, এক নীরব বিদায়বেলার ছোঁয়া।
পাতা ঝরতে শুরু করেছে। গাছের হলুদ রঙে প্রকৃতি যেন ঋতু পরিবর্তনের ঘোষণা দিচ্ছে। মে মাসের সবুজ সাম্রাজ্য এখন ধূসরতার হাতে তুলে দিচ্ছে মুকুট।
গাছের পাতাগুলো এখন সম্পূর্ণ হলুদে রূপ নিয়েছে। সবুজ ঘাসও কমে এসেছে চোখে পড়ার মতো। শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট নদীর ধারে।
তুষারপাত শুরু। নদীর জল বরফে ঢেকে যাচ্ছে, ঘাস হারিয়ে যাচ্ছে সাদা চাদরের নিচে। শুভ্রতার এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো প্রকৃতিতে।
তীব্র ঠান্ডায় গাছটিও যেন নিস্তেজ। বরফের ভারে নুয়ে পড়েছে ডালপালা। ধূসর ঘাস ঢাকা সাদা তুষারে—এ যেন প্রকৃতির নিঃশব্দ নিদ্রা।
সবকিছু বরফে ঢেকে গেছে। শুভ্রতার রাজত্বের সময়। তাপমাত্রা নিচে নামছে, কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য তাতে আরও অনন্য হয়ে উঠছে।
নদীর বরফ এত শক্ত হয়ে গেছে যে হেঁটে পার হওয়াও সম্ভব। বরফের ওপর পায়ের ছাপ যেন সময়ের সাক্ষী। প্রথম গাড়ি নিয়ে নদীর ধারে আসার স্মৃতিটাও থেকে গেছে চিরকাল।
বরফ গলছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। নদীর ধারে ফিরে এসেছে পাখিরা, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বসন্তের আগমনী ঘ্রাণ। এক বছর পর আবার ফিরে আসছে সেই এপ্রিলের প্রতীক্ষা।
একটি গাছ, একটি নদী আর একজন আলোকচিত্রীর মন—এই তিনের মেলবন্ধনে ফুটে উঠেছে প্রকৃতির সময়চক্রের নিঃশব্দ কবিতা।