google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শোয়েব আখতারের সেই গল্প: বিশ্বের দ্রুততম বোলার হওয়ার পথচলা

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: শোয়েব আখতারের সেই গল্প: বিশ্বের দ্রুততম বোলার হওয়ার পথচলা ছবির ক্যাপশন: শোয়েব আখতারের সেই গল্প: বিশ্বের দ্রুততম বোলার হওয়ার পথচলা
ad728

লম্বা দৌড় শেষে আগুনের গোলা ছুড়ে মারা—এটাই ছিল মাঠের শোয়েব আখতারের পরিচয়। ১৯৯৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে অভিষেক, খেলা শেষ ২০১১ বিশ্বকাপে। ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ নামে খ্যাত এই পাকিস্তানি পেসারই ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম বোলার—যিনি ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে বল করেছেন। আত্মজীবনী ‘কন্ট্রোভার্শিয়ালি ইয়োরস’-এ শোয়েব লিখেছেন সেই রেকর্ড গড়ার পেছনের গল্প।


জেফ টমসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ: অনুপ্রেরণার সূচনা

২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে শোয়েবের দেখা হয় কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার জেফ টমসনের সঙ্গে। টমসনের ১৯৭৫ সালের ঘণ্টায় ৯৯.৭ মাইল গতির রেকর্ড ভাঙাই ছিল শোয়েবের লক্ষ্য। টমসন মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আমার রেকর্ড ভাঙতে চাও?”
শোয়েব জবাব দিয়েছিলেন, “ভাঙবই, তবে চাপ নিয়ে নয়—যেদিন শরীর ফুরফুরে লাগবে, সেদিনই ভাঙব।”


ভয়, অভিযোগ আর ছন্দ হারানোর সময়

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে সাড়া জাগালেও শোয়েবের ক্যারিয়ারে শুরু হলো ঝড়। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উঠল প্রশ্ন, মানসিক চাপে পড়লেন তিনি। হাঁটুর ব্যথা, আত্মবিশ্বাস হারানো, আর সন্দেহ—সব মিলে কঠিন সময় পার করেন এই স্পিডস্টার।

২০০২ সালে আইসিসি অবশেষে তাঁর অ্যাকশন বৈধ ঘোষণা করে। সেটিই যেন তাঁকে নতুন করে জন্ম দেয়।


ইতিহাসের দ্রুততম বল: ২০০২ লাহোর ও ২০০৩ কেপটাউন

লাহোরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০২ সালে ঘণ্টায় ১০০.০৫ মাইল গতিতে বল করেন শোয়েব। তবে আইসিসি সেই রেকর্ডকে অনুমোদন দেয়নি।
এক বছর পর, ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেপটাউনে আবারও ইতিহাস গড়েন—১৬১.৩ কিলোমিটার (১০০.২৩ মাইল) গতির বল! এই রেকর্ড আজও অক্ষুণ্ণ।


ব্রেট লির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুত্বও

ব্রেট লি ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী, আবার ভালো বন্ধুও। দুজনেই বিশ্বের দ্রুততম বোলার হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। মাঠে লড়াই, মাঠের বাইরে বন্ধুত্ব—এই প্রতিযোগিতাই দুই পেসারকে ক্রিকেট ইতিহাসে অমর করেছে।


জীবনের ওঠানামা

চোট, বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা—সবই এসেছে শোয়েবের জীবনে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে দর্শকের দিকে বোতল ছুড়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, হাঁটুর চোটে ভুগেছেন বছরের পর বছর। তবু থামেননি।


রেকর্ডের পরের গল্প

২০০৩ বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়লেও পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দল। কিন্তু শোয়েবের ১৬১.৩ কিমি গতির বল চিরকাল থাকবে ক্রিকেট ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা।


শেষ কথা

১৯৯৭ থেকে ২০১১—১৪ বছরের ক্যারিয়ারে তিন সংস্করণে ২২৪ ম্যাচে ৪৪৪ উইকেট। বর্তমানে ইউটিউব, টক শো আর ধারাভাষ্যে সক্রিয় শোয়েব আখতার। তাঁর কথায়, “গতি শুধু বলের নয়, জীবনেরও এক অংশ। আমি সেই গতিকেই ভালোবেসেছি।”


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ