অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ জাতীয় নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। নতুন এই সংশোধনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী জোট গঠিত হলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
🔹 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সেনাবাহিনী যুক্ত
সংশোধিত খসড়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পুলিশের মতোই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এবং এর জন্য আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন হবে না।
🔹 ইভিএম বাতিল, পলাতকদের প্রার্থীতা নিষিদ্ধ
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এ বিধানও খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
🔹 আয়-সম্পদের বিবরণ ও জামানত বৃদ্ধি
প্রার্থীদের অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে, যা অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। জেলার নির্বাচনী কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন জেলার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার।
🔹 ‘না’ ভোট ও আসনভিত্তিক ভোট বন্ধের বিধান
সংশোধিত আরপিওতে ‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো আসনে যদি একজন প্রার্থী থাকেন, তবে ভোটাররা চাইলে ‘না’ ভোট দিতে পারবেন।
আর কোনো সংসদীয় আসনে অনিয়ম ধরা পড়লে, নির্বাচন কমিশন পুরো আসনের ভোট বন্ধ করতে পারবে।
👉 সারাংশ:
এই সংশোধিত আরপিও দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।