অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘উপদেষ্টারা যদি মনে করেন তাঁরা বিচারের ঊর্ধ্বে, তা ভুল। দুর্নীতি করলে তাঁদেরও বিচার হবে।’
রবিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এলডিপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অলি আহমদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার এনজিওদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে—যাদের সরকার চালানোর ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি উপদেষ্টাদের কারও কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিতার অভিযোগ তুললেও নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করেনি। এতে উপদেষ্টাদের মধ্যে অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
দেশের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘হাসিনা “র”-এর সাহায্যে, ভারত সরকারের সহায়তায় সরকার গঠন করেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে আজ ভারতই তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে।
ভারতের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে অলি আহমদ প্রশ্ন তোলেন, ‘যারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে লুণ্ঠন করেছে, তারা কীভাবে বন্ধু হতে পারে?’
তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের ফেরত পাঠানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের প্রতিটি ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ক্যাম্প স্থাপনের নির্দেশনাও দেন সেনাপ্রধানকে—এমনটাই দাবি তাঁর।
অলি আহমদের অভিযোগ, বিদেশি অর্থের সহায়তায় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের বড় নেতারা বিদেশে টাকা পাচার করে রাখছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সভায় মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে। জুলাই–আগস্টকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে বিভ্রান্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি ও ফারজানা রশীদ ব্রাউনিয়া।
শেষে অলি আহমদ বলেন, জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। তাই অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।