google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এক বছরের ব্যবধানে আবারও বিয়ারিং প্যাড খুলে মেট্রোরেল দুর্ঘটনা, নিহত এক যুবক — নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: এক বছরের ব্যবধানে আবারও বিয়ারিং প্যাড খুলে মেট্রোরেল দুর্ঘটনা, নিহত এক যুবক — নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন: এক বছরের ব্যবধানে আবারও বিয়ারিং প্যাড খুলে মেট্রোরেল দুর্ঘটনা, নিহত এক যুবক — নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ad728

ঢাকার মেট্রোরেলে এক বছরের ব্যবধানে আবারও ঘটল একই ধরনের দুর্ঘটনা। ফার্মগেটে মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই গণপরিবহন আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় ফার্মগেটের কাছে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল। তখন কেউ হতাহত না হলেও মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল টানা ১১ ঘণ্টা।

বিয়ারিং প্যাড কী?

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড হলো রাবার ও ইস্পাতের মিশ্রণে তৈরি একধরনের আয়তাকার প্যাড, যা ভায়াডাক্ট (উড়ালপথ) ও পিলারের (স্তম্ভ) মাঝখানে স্থাপন করা হয়। কংক্রিটের দুটি অংশের মাঝে সরাসরি ঘর্ষণ ও ক্ষয় রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্যমতে, প্রতিটি স্প্যানের নিচে চারটি বিয়ারিং প্যাড থাকে। মোট ৬২০টি পিলারে প্রায় ২,৪৮০টি প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে।

কেন পড়ে গেল বিয়ারিং প্যাড?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ারিং প্যাড সাধারণত দুটি ভারী কাঠামোর চাপেই স্থিত থাকে—নাট-বল্টু দিয়ে আটকানো নয়। তাই এমন একটি ভারী অংশ পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “এটি স্পষ্টভাবে নকশাগত ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের প্যাড নিচে পড়ে মানুষ মারা গেলে দায় এড়ানো যায় না।”

ডিএমটিসিএলের কিছু কর্মকর্তা ধারণা করছেন, ঘটনাস্থল ফার্মগেট অংশটি ঢালু ও বাঁকানো হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “এ ধরনের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জের জন্যই নকশা ও নির্মাণে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।”

একই জায়গায় কি আবার ঘটল?

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, এবার ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছে, যা ফার্মগেট স্টেশনের পশ্চিম পাশে। গত বছর ঘটনাটি ঘটেছিল ৪৩০ নম্বর পিলারে।

তদন্ত ও ব্যবস্থা

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নকশাগত ত্রুটি, নির্মাণজনিত সমস্যা বা রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলা—সবকিছুই যাচাই করা হবে।”
এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সেতুসচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল

মেট্রোরেল প্রতিদিন গড়ে ৪.৫ লাখ যাত্রী বহন করে। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকে। দুর্ঘটনার পর মেট্রোরেল আংশিক বন্ধ হয়ে গেলে রাজধানীতে যানজট ও ভোগান্তি বেড়ে যায়।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে মেট্রোরেল উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়েছে, এবং কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, যার মধ্যে জাপানের জাইকা দিয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার ঋণ। এত ব্যয়বহুল প্রকল্পে এভাবে নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা দেওয়া ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক সামছুল হক।

তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনা মেট্রোরেলের প্রতি মানুষের আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বাধীন অডিট জরুরি।”


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ