google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামে যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামে যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ
ad728

চট্টগ্রাম নগরে গভীর রাতে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় মো. সাজ্জাদ (২২) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডের বগার বিলমুখ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত সাজ্জাদ ছিলেন নগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) এমদাদুল হক বাদশার অনুসারী।

ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, এমদাদুল ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়িতদের মধ্যে বোরহান উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আছেন, যিনি নগর ছাত্রদলের সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে যুবদলের সংগঠক দাবি করেন, যদিও সংগঠনের বর্তমান কোনো কমিটি নেই।

পুলিশের বক্তব্য

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন,

“ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন, বেশ কয়েকজন আহত। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।”

সংঘর্ষের আগের ঘটনা

দলীয় সূত্র জানায়, মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে যুবদল কর্মী মো. জসিম সন্ত্রাসীদের লাগানো কিছু ব্যানার খুলে ফেলেন। এর মধ্যে ছিল বোরহান ও সিরাজের ছবিযুক্ত ব্যানার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বোরহান ও নজরুল ইসলাম সোহেলসহ কয়েকজন রাতে জসিমকে ধরে নিয়ে যায় এবং মারধর করে।

জসিম বলেন,

“মেয়রের নির্দেশে ব্যানারগুলো খুলে ফেলেছিলাম। এরপর বোরহানদের দল আমাকে তুলে নিয়ে যায়, আটকে রেখে মারধর করে।”

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এমদাদুলের অনুসারীরা জসিমকে উদ্ধার করতে গেলে বাকলিয়া এক্সেস রোডে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ সময় সাজ্জাদ গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুই পক্ষের বক্তব্য

এমদাদুল হক বাদশা অভিযোগ করে বলেন,

“বোরহানরা মেয়রের নির্দেশে টাঙানো ব্যানার খুলে ফেলায় ক্ষিপ্ত হয়ে জসিমকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁকে ছাড়াতে গেলে গুলি চালায়।”

অন্যদিকে, গাজী সিরাজ উল্লাহ দাবি করেন,

“বোরহান ও সোহেল আমার অনুসারী নয়। তারা খারাপ কর্মকাণ্ডে জড়িত জেনে অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছি।”

নিহতের পরিবারের দাবি

হাসপাতালে ছুটে আসা সাজ্জাদের মা ফরিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“আমার ছেলেকে কেন গুলি করল? আমি তার খুনিদের বিচার চাই।”

সাজ্জাদের ভাই মোহাম্মদ ইমরান বলেন,

“আমার ভাই ছাত্রদলের রাজনীতি করত। আমরা তার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে যুবদল ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে একাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। সর্বশেষ এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ